সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ব্যালন ডিঅর জরিপে এমবাপ্পেকে পেছনে ফেললেন ইয়ামাল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

ব্যালন ডিঅর জরিপে এমবাপ্পেকে পেছনে ফেললেন ইয়ামাল

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডিঅরের বিজয়ীর নাম ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে স্পেনের মাদ্রিদভিত্তিক শীর্ষ ক্রীড়া দৈনিকের পাঠক জরিপে চমকপ্রদ ফল সামনে এসেছে। চরম প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের বড় একটি অংশের কাছেও এবারের পুরস্কারের জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে শীর্ষে উঠে এসেছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। পুরস্কারের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ৩০ জন মনোনীত ফুটবলারের মধ্যে কাকে এবার ব্যালন ডিঅর দেওয়া উচিত তা জানতে পাঠকদের মতামত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পোর্টাল গোল ডটকমের বরাতে জানা যায়, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এই জরিপে মোট ২ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪৯ জন পাঠক নিজেদের ভোট প্রদান করেছেন।

ভোটের হিসাবে দেখা যায়, মোট ভোটের সর্বোচ্চ ২৯ শতাংশ ভোট নিজের পক্ষে টেনে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন ইয়ামাল। তিনি এককভাবে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ৪৯৪ ভোট। বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে পেয়েছেন ১৯ শতাংশ ভোট, যা সংখ্যায় ৪৩ হাজার ১৫৫টি। ফলে ভোটের দিক থেকে বার্সেলোনার স্প্যানিশ তারকার চেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন এমবাপ্পে। পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে ইয়ামাল ও এমবাপ্পের মধ্যকার মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবল মহলে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইয়ামাল এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি ও এমবাপ্পে বর্তমানে বিশ্বের সেরা দুই ফুটবলারের কাতারে রয়েছেন। একই সাথে তিনি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও দলীয় অর্জনের সার্বিক মূল্যায়নে এবারের মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি জয়ের যোগ্য বলেও নিজের দাবি তুলে ধরেন। অন্যদিকে এমবাপ্পে নিজের পছন্দের তালিকায় আরও অকপট অবস্থান নিয়ে সরাসরি নিজেকেই প্রথম ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ক্লাব পর্যায়ে কাতালান ক্লাব বার্সেলোনা প্রকাশ্যেই তাদের প্রতিভাবান ফুটবলার ইয়ামালের পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে।

অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকেও তারকা ফরোয়ার্ড এমবাপ্পের পক্ষে ধারাবাহিক বক্তব্য এসেছে। তবে মাদ্রিদকেন্দ্রিক একটি গণমাধ্যমের সাধারণ পাঠক ও সমর্থকদের মূল্যায়নে এমবাপ্পেকে টপকে ইয়ামাল শীর্ষস্থান দখল করে নেওয়াকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বড় একটি চমক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তালিকার পরবর্তী অবস্থানগুলোতে স্থান পেয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা আরলিং হালান্ড, বার্সেলোনার ফেরান তোরেস, বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসে, প্যারিস সেন্ট জার্মেইর ভিতিনিয়া এবং রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

এদের বাইরে মনোনীত বাকি ফুটবলারদের প্রত্যেকেই মোটের ওপর এক শতাংশেরও কম ভোট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। জরিপে সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস, যার পক্ষে পড়েছে মাত্র ২০০টি ভোট। তার কিছুটা ওপরে অবস্থান করছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ ২৬৬ ভোট, ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মারকিনিয়োস ২৬৩ ভোট, পর্তুগালের নুনো মেন্দেস ২৮৭ ভোট এবং ফরাসি ডিফেন্ডার দয়ো উপামেকানো ২৯৪ ভোট।

ফরাসি সেন্টার-ব্যাক উইলিয়াম সালিবা পেয়েছেন ৪০৬ ভোট, ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস পেয়েছেন ৪১৫ ভোট, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেস ৪১৬ ভোট এবং একুয়েডরের ডিফেন্ডার উইলিয়াম পাচো পেয়েছেন ৪২১ ভোট। মরক্কোর তারকা রাইট-ব্যাক আশরাফ হাকিমি ৫২০ ভোট, কলম্বিয়ান উইঙ্গার লুইস দিয়াজ ৫৮৩ ভোট, সেনেগালের অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সাদিও মানে ৫৯৫ ভোট এবং মেক্সিকোর ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কুইনিয়োনেস পেয়েছেন ৮৭৩ ভোট।