সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আকস্মিকভাবে রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। নগরীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং ২০০১ সালের পর এই মাসে রেকর্ডকৃত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। টানা বৃষ্টিপাত ও মেঘলা আকাশের কারণে হঠাৎ এমন ঠান্ডা রাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে এবার শীত নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে আসছে কি না। উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে অনেকেই শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ রেখেছেন এবং বৈদ্যুতিক পাখার গতি কমিয়ে দিয়েছেন।
তবে আবহাওয়াবিদরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে শীতের আগাম আগমন কিংবা এল নিনোর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবেই সাময়িকভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা মৌসম টাক-এর প্রতিষ্ঠাতা দেবেন্দ্র ত্রিপাঠী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগর থেকে স্থলভাগে প্রবেশ করা একটি দীর্ঘস্থায়ী গভীর নিম্নচাপের প্রভাবেই ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়েছে। মৌসুমি বায়ু বিদায়ের অনুকূল সময়ে এই নিম্নচাপটি শক্তিশালী আবহাওয়া পরিবেশ পেয়েছিল।
মৌসুমি বায়ু সরে যাওয়ার সমান্তরালে হিমালয় অঞ্চল ও উত্তর ভারতের সমভূমিতে শুষ্ক পশ্চিমা বায়ুর প্রভাব বাড়তে শুরু করে। এই সংমিশ্রণে আবহাওয়া ব্যবস্থা দীর্ঘসময় অত্যন্ত সক্রিয় থাকে এবং বৃষ্টিপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। উক্ত নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতির সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়েছে উত্তরাখণ্ড, দিল্লি, হরিয়ানা ও রাজস্থান অঞ্চলেও। টানা মেঘলা আকাশ, উচ্চ আর্দ্রতা ও অবিরাম বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বাড়তে পারেনি।
তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, এটি স্বাভাবিক ঋতু পরিবর্তনের কোনো স্থায়ী লক্ষণ নয়; বরং সক্রিয় নিম্নচাপ ব্যবস্থার সাময়িক ও ক্ষণস্থায়ী প্রভাব মাত্র। বিদ্যমান নিম্নচাপ ব্যবস্থাটি দুর্বল হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর ভারতে শুষ্ক পশ্চিমা বায়ুর প্রবাহ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর থেকে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি, রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশের বেশিরভাগ এলাকার আকাশ পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার হয়ে ওঠার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বায়ুমণ্ডলে মেঘের ঘনত্ব হ্রাস পেলে এবং আর্দ্রতা কমে বায়ুমণ্ডল শুষ্ক হয়ে উঠলে দিনের তাপমাত্রা পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে উত্তর ভারতের সমভূমি এলাকায় দ্রুতই ফিরে আসতে পারে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ আবহাওয়া।
এদিকে মিয়ানমার উপকূলের নিকটবর্তী অঞ্চলে সৃষ্টি হওয়া আরেকটি নতুন নিম্নচাপ বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। এই নতুন ব্যবস্থাটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিলেও আগের সিস্টেমের মতো বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে নতুন এই নিম্নচাপের প্রভাবে পূর্ব উত্তর প্রদেশ, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে আবারও নতুন করে বৃষ্টিপাত দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের সার্বিক তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে সেপ্টেম্বরের এই অস্বাভাবিক শীতল রাতকে কোনোভাবেই শীতের আগাম আগমন হিসেবে দেখার বৈজ্ঞানিক সুযোগ নেই। বর্তমান তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ঘটনাটি মূলত সাময়িক মেঘলা ও বৃষ্টিপ্রবণ পরিস্থিতির ফল এবং এর সাথে এল নিনো কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের বিশেষ কোনো প্রত্যক্ষ যোগসূত্র নেই।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন