বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
এশিয়ান কাপ ক্রিকেটে আক্ষেপ

উইকেটের ধারণা ছাড়াই খেলেছি: পাকিস্তানের কাছে হেরে লিটন

স্পোর্টস ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

উইকেটের ধারণা ছাড়াই খেলেছি: পাকিস্তানের কাছে হেরে লিটন

উইকেট সম্পর্কে কোনো ধরনের পূর্ব ধারণা বা প্রস্তুতি ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের কাছে ছয় উইকেটে হেরে টুর্নামেন্টের স্বর্ণপদক জয়ের দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দলের এমন প্রস্তুতিহীনতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন অধিনায়ক লিটন দাস।

জাপানের নাগোয়ায় বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ১৩ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে সাত উইকেটে ১১১ রান তোলে বাংলাদেশ। দলের পক্ষে তাওহীদ হৃদয় ছাড়া আর কোনো ব্যাটার রানের চাকা সচল রাখতে পারেননি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে চার উইকেট হারালেও নয় বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় পাকিস্তান।

ম্যাচ শেষে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা এবং ম্যাচ অনুশীলনের অভাবকে প্রধান অন্তরায় হিসেবে তুলে ধরেন অধিনায়ক। তিনি জানান, টুর্নামেন্টের আগের কয়েকটি ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় কোনো প্রতিপক্ষের খেলা দেখেও মাঠ ও পিচের আচরণ বোঝার সুযোগ ছিল না তাদের সামনে। লিটন দাস বলেন, দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর হঠাৎ এমন ম্যাচে নামলে সমস্যা হয়। অন্তত কুড়ি ওভার খেলা দেখার সুযোগ পেলে পিচ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যেত। কিন্তু আগের কয়েক দিন কোনো খেলা দেখার সুযোগ হয়নি এবং উইকেটেও অনুশীলনের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কোনো স্পষ্ট ধারণা ছাড়াই শুরুর কয়েকটি ওভার খেলতে হয়েছে তাদের।

বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায় বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতেই। দলীয় ২১ রানেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান সাত, অধিনায়ক লিটন দাস দুই এবং পারভেজ হোসেন মাত্র এক রান করে সাজঘরে ফেরেন। মিডল অর্ডারে সাইফ হাসান কিছুক্ষণ চেষ্টা করলেও ১৯ রানের বেশি এগোতে পারেননি।

সেখান থেকে দলের হাল ধরেন তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। মোসাদ্দেক হোসেনকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তিনি। চারটি ছক্কার সাহায্যে ২৫ বলে ৪৫ রানের এক লড়াকু ইনিংস উপহার দেন হৃদয়। তিনি যখন মাঠ ছাড়েন ততক্ষণে দল একশ রানের কোটা পার করে। শেষ দিকে শেখ মেহেদী হাসানের দুটি বাউন্ডারিতে ভর করে ইনিংস থামে ১১১ রানে।

স্বল্প রানের এই পুঁজি নিয়েও ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন বোলাররা। পাকিস্তানের দলীয় ইনিংসে দ্রুত চারটি উইকেট তুলে নিয়ে তাদের ওপর প্রাথমিক চাপ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে সেই চাপ আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ক্রিজে নেমে পাকিস্তানের আব্দুল সামাদ ও হাসান নাওয়াজ দ্রুত রান তুলতে শুরু করলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যায়।

সবচেয়ে বড় আঘাতটি আসে দশম ওভারে। পেসার মুস্তাফিজুর রহমান নিজের এই দ্বিতীয় ওভারে পাঁচটি চারের মারসহ মোট ২৩ রান দেন। লিটন দাস এই মাঝের ওভারের বোলিং ব্যর্থতাকেই পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাঝের ওভারগুলোতে বোলাররা অতিরিক্ত বাউন্ডারি না দিলে এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারলে ম্যাচের ফল ভিন্ন হতে পারত।

তবে ব্যয়বহুল বোলিংয়ের কারণে মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলেও নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন অধিনায়ক। দুই ওভারে ৪১ রান দেওয়া এই বাঁহাতি পেসারকে তৎকালীন পরিস্থিতিতে দলের সেরা বিকল্প বলে মন্তব্য করেন তিনি। লিটন বলেন, মাঠে অনেক বোলারই ছিলেন, তবে সে সময় মুস্তাফিজকেই সবচেয়ে উপযোগী মনে হয়েছিল। আজ যদি তিনি তিনটি উইকেট পেতেন তবে এমন প্রশ্ন উঠত না বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে তাওহীদ হৃদয়ের সাহসী লড়াই ও মোসাদ্দেক হোসেনের সাথে তার কার্যকর জুটির ভূয়সী প্রশংসা করেন অধিনায়ক।

দেশ ছাড়ার আগে সোনা জয় ও ফাইনাল খেলার যে স্বপ্ন নিয়ে দল গিয়েছিল, তা পূরণ না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন লিটন। তিনি বলেন, প্রস্তুতিতে ফাঁক থাকলে অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এসে নতুন দল দেশের জন্য পদক জয়ের এই চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।