শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬,
বিদ্যুতে ছুটবে ট্রেন

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২, ২০২৬, ১২:০০ পিএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চলাচলের উদ্যোগ

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে পৌনে চার হাজার কোটি টাকার নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রকল্প। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ২০২৮ সালের মধ্যে এই রুটে ওভারহেড ক্যাটেনারি তার ও বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন স্থাপন করা হবে, যার মধ্য দিয়ে কালো ধোঁয়ার ডিজেল ইঞ্জিন পেরিয়ে বিদ্যুতে ছুটবে ট্রেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর অংশটি মূলত ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরো করিডোরের প্রথম কৌশলগত ভিত্তি। পর্যায়ক্রমে এই আধুনিক নেটওয়ার্ক সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে টঙ্গী থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরের জন্য ১৪ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করেছে রেলওয়ে, যার বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩২ সাল পর্যন্ত।

অন্যদিকে লাকসাম থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১৩১ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে ১৬ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্প প্রস্তাব একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। নতুন লাইন নির্মাণের সময়ই সেখানে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রকল্পের আওতায় ওভারহেড ক্যাটেনারি ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, যা ২০৩২ সালের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।

রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ফকির মো. মহিউদ্দীন জানান, ২০৩২-৩৩ সালের মধ্যে এই করিডোরে ব্রডগেজ রূপান্তরের কাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইলেকট্রিক ট্র্যাকশনের কাজ ওই প্রকল্পের সঙ্গেই শুরু করা হবে, যাতে ২০৩৩-৩৪ সালের মধ্যে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

এরই মধ্যে আখাউড়া-লাকসাম অংশে নতুন ডাবল লাইন চালু করা হয়েছে এবং ঢাকা-টঙ্গী সেকশনেও অতিরিক্ত রেললাইন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। তবে উচ্চগতির এই ট্রেন নিরাপদে পরিচালনার ক্ষেত্রে ঝুলন্ত ক্যাটেনারি তার স্থাপন এবং সব লেভেল ক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ৫২ কিলোমিটার পথের জন্য যে ধরনের রোলিং স্টক ব্যবহার করা হয়, তা দূরপাল্লার ভ্রমণের উপযোগী নয়। তাই রোলিং স্টকের সঠিক চাহিদা ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে শুরু থেকেই সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী অংশের ডুয়েলগেজ রূপান্তরের কাজ শেষ হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারও এই নিরবচ্ছিন্ন বৈদ্যুতিক রেল যোগাযোগের আওতায় চলে আসবে।