বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে ফের বাড়লো তেলের দাম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে ফের বাড়লো তেলের দাম

বাড়ছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা তৃতীয় দিনের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের ভয় বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে পারে এমন আশঙ্কায় বাজারে দামের ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে। 

মঙ্গলবার গ্রিনিচ সময় অনুযায়ী ভোর ৪টায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়ায়। এটি আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বা ১ দশমিক ৭০ ডলার বেশি।

সোমবার লেনদেনের একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ৮২ দশমিক ৩৭ ডলারে উঠেছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর এটি তেলের সর্বোচ্চ বাজারমূল্য। দিনের শেষভাগে দাম কিছুটা কমলেও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের ব্যবধানে ঊর্ধ্বমুখী থেকে বাজার বন্ধ হয়। 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ১ দশমিক ৬ শতাংশ বা ১ দশমিক ১৭ ডলার বেড়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৭২ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের সেশনে ডব্লিউটিআই একপর্যায়ে জুন ২০২৫ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল।বাজার বিশ্লেষকদের মতে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের কোনো লক্ষণ দেখা না যাওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় তেলের বাজারে চরম অনিশ্চয়তা কাজ করছে। 

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় দুশ্চিন্তা কাজ করছে যে ইরান হয়তো পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। ব্রিটিশ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইজি গ্রুপের বাজার বিশ্লেষক টনি সিকামোর জানিয়েছেন যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর জাতীয় অর্থনীতিতে।