শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

তিন দশকে বন্ধ ১০ এয়ারলাইন্স: বাজেটে আসছে নতুন পরিকল্পনা?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৯, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

তিন দশকে বন্ধ ১০ এয়ারলাইন্স: বাজেটে আসছে নতুন পরিকল্পনা?

এভিয়েশন খাতের সংকট ও সম্ভাবনা

গত তিন দশকে বাংলাদেশে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, অত্যধিক বিমানবন্দর চার্জ এবং সরকারি সারচার্জের চাপে ১০টি বেসরকারি এয়ারলাইন্স কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। ১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই শিল্পে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে মাত্র চারটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স কোনোমতে টিকে আছে, তবে তারাও নানা সংকট মোকাবিলা করছে।

এভিয়েশন খাতের বর্তমান সংকট নিয়ে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্য এবং বিমানবন্দরে ল্যান্ডিং ও পার্কিং চার্জ এ খাতের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম জানান, সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং খাতভিত্তিক ভর্তুকি বা সাবসিডি পাওয়া গেলে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

আসন্ন বাজেটে এই অবস্থার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, বাজেট অধিবেশনে এভিয়েশন খাতকে লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

মন্ত্রণালয় এ খাতকে রাজস্ব আয়কারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য জ্বালানির যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি। বর্তমানে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার (১৩–১৫ শতাংশ) এয়ারলাইন্সগুলোর ব্যবসায়িক সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। ‘দ্যা বাংলাদেশ মনিটর’-এর সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, বর্তমান কর কাঠামো সংশোধন ও অর্থায়নের সুযোগ সহজ না করলে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না। 

বর্তমানে ৩৫টি বিদেশি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনার ফলে এই খাতের অর্থের বড় একটি অংশ বিদেশে চলে যাচ্ছে।বাজেটে এ খাতের জন্য বাস্তবসম্মত নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা থাকলে দেশীয় এভিয়েশন শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।