রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

কুর্দিকে জাতীয় ভাষার মর্যাদা দিল সিরিয়া

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

কুর্দিকে জাতীয় ভাষার মর্যাদা দিল সিরিয়া

সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এক ঐতিহাসিক ডিক্রি জারির মাধ্যমে কুর্দি ভাষাকে দেশের ‘জাতীয় ভাষা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি দামেস্কে এই গুরুত্বপূর্ণ ডিক্রিটি জারি করা হয় যা সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত বৈষম্য দূরীকরণে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

এই ডিক্রির মাধ্যমে কেবল ভাষাগত স্বীকৃতিই নয় বরং কুর্দিদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী তাদের নাগরিক অধিকার ও জাতীয় ঐতিহ্যেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট আল-শারা তার বার্তায় স্পষ্ট করেছেন যে সিরিয়ার কুর্দি নাগরিকরা এ দেশের জনগণের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সিরিয়ার ঐক্যবদ্ধ জাতীয় পরিচয়ের সম্পদ।নতুন এই ডিক্রি অনুযায়ী ১৯৬২ সালের বিতর্কিত আদমশুমারির কারণে যারা সিরিয়ার নাগরিকত্ব হারিয়েছিলেন সেই সব কুর্দিদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

তৎকালীন সময়ে এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ২০ শতাংশ কুর্দি জনগোষ্ঠীকে ‘বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। কয়েক দশক ধরে চলমান সেই অন্যায়ের অবসান ঘটিয়ে প্রেসিডেন্ট আল-শারা তাদের পূর্ণ নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন। পাশাপাশি কুর্দিদের প্রধান উৎসব ‘নওরোজ’ বা নববর্ষকে সিরিয়ার জাতীয় সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ডিক্রিতে বলা হয়েছে যে যেসব অঞ্চলে কুর্দি জনসংখ্যার আধিক্য রয়েছে সেখানে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুর্দি ভাষা ঐচ্ছিক পাঠ্যক্রম হিসেবে পড়ানো যাবে।

প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এই ডিক্রি জারির পর এক বিশেষ ভাষণে বলেন যে জাতিগত পরিচয়ের চেয়ে মানুষের দেশপ্রেম ও সততা অনেক বড় এবং আরবের ওপর কুর্দি বা তুর্কিদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। সিরিয়ার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে সরকারি বাহিনীর সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমঝোতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। 

বিশেষ করে আলেপ্পো থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের প্রত্যাহারের পর এই ডিক্রিটি জারি করা হলো যা কুর্দি জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ কুর্দি ভাষায় কথা বললেও সিরিয়ার ইতিহাসে এবারই প্রথম এই ভাষাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় মর্যাদা দেওয়া হলো। সরকারি গেজেট প্রকাশের পর আজ থেকেই এই ডিক্রি কার্যকর হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।