মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পাকিস্তানে শপিংমলে ভয়াবহ আগুন, নিহত অন্তত ৫

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১১:০০ এএম

পাকিস্তানে শপিংমলে ভয়াবহ আগুন, নিহত অন্তত ৫

করাচির গুল প্লাজা শপিংমলের জানালা দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বের হচ্ছে এবং ধোঁয়ায় আকাশ কালো হয়ে আছে। সামনে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।পাকিস্তানের করাচির এম এ জিন্নাহ রোডে অবস্থিত গুল প্লাজা শপিংমলে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৫ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে।

 শনিবার গভীর রাতে লাগা এই আগুন টানা ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রোববার সকালে আগুনের প্রচণ্ড তাপের কারণে ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। 

রেসকিউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ভবনের ভেতরে জমা হওয়া অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে দমকলকর্মীরা এখনও পুরোপুরি ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। 

ফলে ভেতরে আর কেউ আটকে আছে কি না তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।করাচি সাউথ জেলার ডেপুটি কমিশনার জাভেদ নবী খোসো জানিয়েছেন যে ভবনের প্রথম তলার পেছনের অংশে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তার আশঙ্কা অনুযায়ী প্রথম ও মেজানাইন তলায় এখনও বেশ কিছু মানুষ আটকে থাকতে পারেন যাদের কাছে উদ্ধারকর্মীরা এখনও পৌঁছাতে সক্ষম হননি।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে ভবনটিতে কোনো জরুরি নির্গমনপথ বা পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকার কথা থাকলেও ঘটনাস্থলে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ভবনের নকশা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।সিন্ধু ইমার্জেন্সি সার্ভিস ১১২২–এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ডা. আবিদ জালালউদ্দিন শেখ জানিয়েছেন যে আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ২০টি ফায়ার টেন্ডার ও চারটি স্নরকেল কাজ করছে।

তবে ভবনের ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ দাহ্যসামগ্রী এবং এয়ার কন্ডিশনিংয়ের দোকানগুলোর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। চিফ ফায়ার অফিসারের মতে ভবনটি চারদিক থেকে ঘেরা হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় ধোঁয়া ও তাপ বের হতে পারছে না যা উদ্ধারকাজে বড় বাধা। তবে এখন পর্যন্ত ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন করাচি সাউথের ডিআইজি আসাদ রাজা। ভবনের একটি স্তম্ভ ধসে পড়ায় পুরো কাঠামোটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।