রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভারতে বাইকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে আগুন, ২০ মৃত্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ১১:০৯ এএম

ভারতে বাইকের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষে আগুন, ২০ মৃত্যু

ছবি - সংগৃহীত

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন বাসযাত্রীর জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে রাজ্যের কুর্নুল জেলার মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যস্ততম হায়দরাবাদ-বেঙ্গালুরু জাতীয় মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের পর বাসটিতে আগুন ধরে গেলে এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস সহ একাধিক গণমাধ্যম এই দুর্ঘটনার খবর জানিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের সংখ্যা ২০ বা তার বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও সরকারিভাবে এখনও চূড়ান্ত সংখ্যা ঘোষণা করা হয়নি। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ভারতের রাষ্ট্রপতি ও অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সকালে, যখন যাত্রীবোঝাই বাসটি হায়দরাবাদ থেকে বেঙ্গালুরুর দিকে যাচ্ছিল। কুর্নুল জেলার কাছে হাইওয়ের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা ঠিক কেমন ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও, এর পরপরই বাসটিতে আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো বাসটিকে গ্রাস করে ফেলে।

বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আর্তচিৎকার শুরু হয়। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে চল্লিশ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র বারো জন যাত্রী কোনোক্রমে জ্বলন্ত বাস থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, বাকিরা বাসের ভেতরেই আটকা পড়েন। আগুন এতটাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল যে, ভেতরে থাকা যাত্রীদের বের হওয়ার বা তাদের উদ্ধার করার কোনো সুযোগই পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। তারা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন এবং উদ্ধার তৎপরতা চালান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতায় বাসের ভেতরের অংশ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, বাসের ভেতরে যারা আটকা পড়েছিলেন, তারা সকলেই আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীর সংখ্যা এবং তাদের শারীরিক অবস্থার ভয়াবহতার কারণে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করতে সময় লাগছে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ঠিক কী কারণে সংঘর্ষের পর বাসটিতে আগুন ধরল, বাসে অগ্নি নির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা ছিল কিনা, কিংবা জরুরি নির্গমন পথগুলো কার্যকর ছিল কিনা—এইসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় যে প্রাণহানি ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। মৃতদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।

’ অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডুও এই ঘটনায় তীব্র শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনেরও ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতে প্রায়শই সড়ক দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, রাস্তার ত্রুটি এবং যানবাহনের ফিটনেস জনিত সমস্যাকে এইসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। কুর্নুলের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা আবারও দেশটির সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার নাজুক চিত্রটিকেই সামনে নিয়ে এলো। উদ্ধারকাজ শেষে এবং তদন্তের পর এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।