মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানি ১৪ জুলাই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:০৬ পিএম

শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানি ১৪ জুলাই

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আলোচিত রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত। জয় বাংলা ব্রিগেড নামের একটি গোপন সংগঠনের অনলাইন জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত এবং দেশব্যাপী রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। 

বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন রাষ্ট্রপক্ষ সুনির্দিষ্ট আইনি যুক্তি তুলে ধরে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ গঠন করার জন্য জোরালো শুনানি করেন। অন্যদিকে উপস্থিত আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই মামলা থেকে তাঁদের মক্কেলদের সম্পূর্ণ অব্যাহতি চেয়ে পাল্টা আইনি লড়াই চালান।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আইনি বক্তব্য শেষ না হওয়ায় আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য নতুন এই তারিখ পুনর্নির্ধারণ করেন।আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী সাংবাদিকদের এই অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। মামলার মূল নথি থেকে জানা গেছে যে প্রধান আসামি শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জন অভিযুক্তের মধ্যে ২৫৯ জনই বর্তমানে দেশের বাইরে বা বিভিন্ন এলাকায় পলাতক রয়েছেন। অপরদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাবেক সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ মাত্র ২৭ জন আসামি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। 

দাপ্তরিক অভিযোগ থেকে জানা যায় যে বিগত ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জয় বাংলা ব্রিগেড নামের একটি গোপন গ্রুপের জুম মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছিল।সেখানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একটি ভয়াবহ অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে পুনরায় দেশের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং তা নিশ্চিত করার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কড়া প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। ওই বিতর্কিত ডিজিটাল মিটিংয়ে দেশ ও বিদেশ থেকে মোট ৫৭৭ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী অংশ নেন এবং শেখ হাসিনার দেওয়া সব গোপন নির্দেশ সরাসরি পালন করার ব্যাপারে সবাই একমত প্রকাশ করেন। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডক্টর রাব্বি আলমের সঞ্চালনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কো-হোস্ট ও অংশগ্রহণকারীদের কথোপকথনের সেই অডিও রেকর্ড পর্যালোচনা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে তারা বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে না দেওয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।অনলাইন মিটিংয়ে সরকারকে জোরপূর্বক উৎখাত করার জন্য গৃহযুদ্ধের প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ এই মামলাটি দায়ের করা হয়। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এনামুল হক বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে প্রথম রাষ্ট্রদ্রোহের এই অভিযোগ এনেছিলেন। 

পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারায় বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তাকেই পুরো ঘটনার নিখুঁত তদন্তের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স উইং শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে এই চূড়ান্ত চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করে।