রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬,

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার মামলার রায় মঙ্গলবার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার মামলার রায় মঙ্গলবার

ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে দেশব্যাপী সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হবে। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণার এই আনুষ্ঠানিক তারিখ নির্ধারণ করেন।

বিচারিক প্যানেলের বাকি দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এ মামলায় অভিযুক্ত সাতজন শীর্ষ নেতাই বর্তমানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টিতে পলাতক রয়েছেন। ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সোমবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ প্রসিকিউশন টিমের অন্যান্য সদস্যরা।

বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয় এবং ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। এর আগে গত ২ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছিল। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযুক্ত সাতজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন করে নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। এর পূর্বে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিলকৃত আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, জুলাই ও আগস্টের গণবিক্ষোভ দমনে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে নামাতে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। বিভিন্ন গোপন ও প্রকাশ্য বৈঠকে সশস্ত্র হামলা এবং বলপ্রয়োগের নীলনকশা প্রণয়নের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণেরও অপচেষ্টা চালানো হয়। এসব ধারাবাহিক পরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলেই দেশজুড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল বলে আদালত সূত্রে দিনাজপুর টিভি ডট কম নিশ্চিত করছে।