তানভীর হাসান তানু
নভেম্বর ১, ২০২৬, ১২:০১ এএম
ছবি: দিনাজপুর টিভি
দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. দেলাওয়ার হোসেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। এর আগে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা মোড় ঘুরে পুনরায় বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এসে শেষ হয়।
জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক ফলাফল তৈরি করা হয়েছে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো অধ্যায়।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে দেলাওয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, ভোট জালিয়াতি, নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং নির্বাচনী এজেন্ট ও কর্মীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনে কীভাবে ভোট জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে, তা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
এসব অনিয়মের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি ব্যর্থ নির্বাচন কমিশনের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান। একই সাথে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।
বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ বেলাল উদ্দিন প্রধান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় সমর্থকেরা।
গত ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।