এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১০:২২ এএম
সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেক বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈঠকের মাধ্যমে নতুন সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের একটি প্রাথমিক চিত্র ফুটে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ১৮টি প্রকল্প উত্থাপনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৭টি প্রকল্পই চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছে। এই প্রকল্পগুলোর জন্য মোট সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৯টি একেবারে নতুন প্রকল্প।
এ ছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত আরও ৩৩টি প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ এবারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছিল, যার প্রথম পর্যায়ের ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকা। তবে আজকের বৈঠকে নদী, পানি ও জলবায়ু বিষয়ক ৪টি প্রকল্প গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বগুড়া ও গাইবান্ধার করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন এবং ময়মনসিংহে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ। এ ছাড়া রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ, সারাদেশে সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ, আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন এবং ৮টি বিভাগে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
বৈঠকের তালিকায় থাকা অন্যান্য বড় খাতের মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নে ৫টি এবং সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নে ৩টি প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়নের জন্য আলাদা বিশেষ প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন সরকারের প্রথম বৈঠক হিসেবে এই প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছতা ও তদারকি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মো. আইনুল ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, "জলবায়ু, নদী, রাস্তা এবং স্বাস্থ্য খাতের মতো মৌলিক বিষয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়ার উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। তবে আমাদের দেশে প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি হলে খরচ বেড়ে যায় এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। তাই নতুন সরকারকে শুরু থেকেই কঠোর নজরদারি ও সঠিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।" নতুন সরকারের এই প্রথম একনেক বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোই মূলত আগামীর বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল লক্ষ্যমাত্রা বা প্রায়োরিটি নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন