এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
আগামীকাল ৭ এপ্রিল তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতের রাজধানী দিল্লি যাচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই কোনো বাংলাদেশি মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সফরকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সরকারি উচ্চপর্যায়ের সূত্র অনুযায়ী, ৭ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত এই সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পথনকশা তৈরি করা হবে। বিশেষ করে পারস্পরিক আস্থা ও মর্যাদার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই সফরে ঢাকা মূলত দিল্লির বর্তমান অবস্থান বোঝার চেষ্টা করার পাশাপাশি নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও অবস্থানও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। সফরের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ এপ্রিল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবেন ড. খলিলুর রহমান। এ ছাড়া ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং জ্বালানিমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গেও তার আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে সঙ্গী হিসেবে থাকছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট এই সফরের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য বিকল্প জ্বালানি উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারত থেকে বিশেষ করে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। এ ছাড়া গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ায় এটি নবায়ন বা নতুন করে সমঝোতায় আসার বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। বর্তমানে দুই দেশের প্রতিনিধিরা এই চুক্তির প্রযুক্তিগত দিকগুলো মূল্যায়ন করছেন।
সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০২৬-২৭ মেয়াদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা। এই মর্যাদাপূর্ণ পদের নির্বাচনে ভারতের সমর্থন চাইতে পারেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কূটনৈতিক এই মিশন শেষ করে ড. খলিলুর রহমান ১১ এপ্রিল মরিশাসের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে তিনি পোর্ট লুইসে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’-এ যোগ দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন