জুলাই ২২, ২০২৫, ০৩:১৬ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার যুবক মো. রায়হান। সোমবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। রায়হানের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের প্রতিবেশী মাহমুদুল আলম জানান, প্রতিদিনের মতো কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন মো. রায়হান। সড়ক পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। প্রায় পাঁচ বছর ধরে কাতারে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন রায়হান। দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অবদান রাখা এই প্রবাসী যুবক তার পরিবার-পরিজনের স্বপ্ন পূরণের আশায় নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছিলেন। তার এই অকাল প্রয়াণ প্রবাসে কর্মরত হাজারো বাঙালির সংগ্রামের করুণ পরিণতিকেই আবার সামনে এনেছে।
রায়হানের মৃত্যুর খবর তার নিজ এলাকা রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় পৌঁছালে শোকের মাতম শুরু হয়। তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান দেশে রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন, কিন্তু এখন তারা দেখছেন নিথর দেহটি কফিনবন্দী হয়ে ফিরছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রায়হানের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রবাসীদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু সবসময়ই দেশের পরিবারগুলোতে গভীর শূন্যতা তৈরি করে।
কাতারে বা অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা নতুন নয়। কাজের প্রয়োজনে তাদের অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চলাচল করতে হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের উচিত, প্রবাসীদের কর্মক্ষেত্রে ও সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। একই সাথে, প্রবাসে কর্মরতদের জন্য পর্যাপ্ত বীমা সুবিধা ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত আইনি সহায়তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
রায়হানের এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং প্রবাসে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির জীবন ঝুঁকির যে বাস্তবতা, তাকেই আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন