আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৫:৩৩ পিএম
দীর্ঘ ১১ বছর পর নেত্রকোনা জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল শনিবার। শহরের মোক্তারপাড়া মাঠে আয়োজিত এই সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১০টি উপজেলা ও পাঁচটি পৌর কমিটির ১ হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলরের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। সম্মেলনকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন এলাকা, যেমন মোক্তারপাড়া, কুড়পাড় ও ছোটবাজারসহ পুরো শহরে প্রার্থীদের ছবি সংবলিত ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে, যা নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সবশেষ ২০১৪ সালের ২৫ অক্টোবর নেত্রকোনা জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেবার কাউন্সিলরদের ভোটে আশরাফ উদ্দিন খান সভাপতি এবং ডা. আনোয়ারুল হক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০১৯ সালের ৬ আগস্ট মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে একটি ৬৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়, যার আহ্বায়ক ছিলেন ডা. আনোয়ারুল হক এবং সদস্য সচিব ছিলেন রফিকুল ইসলাম হিলালী। এই কমিটি দীর্ঘ ছয় বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
আগামীকালের সম্মেলনে সভাপতি পদে বর্তমান আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু এবং জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সম্মেলন ও কাউন্সিল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সহকারী নির্বাচন কমিশনার আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে নেতা নির্বাচন করা হবে এবং সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন।
দলীয় একজন যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত এবং তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তিনি আরও জানান, সমঝোতা না হওয়ায় ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হচ্ছে, যা দলের জন্য ইতিবাচক। সভাপতি প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল হক এবং অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক উভয়েই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে মাহফুজুল হক সম্মেলনকে ঘিরে কালো টাকার ছড়াছড়ির অভিযোগও করেছেন।