জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকট নিরসন ও ভোক্তা পর্যায়ে দাম কমিয়ে আনতে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।
মূলত শীত মৌসুমে গ্যাসের বাড়তি চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে দেশে ব্যবহৃত মোট এলপি গ্যাসের প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। এটি বর্তমানে দেশের শিল্প ও গৃহস্থালি উভয় ক্ষেত্রেই একটি অপরিহার্য জ্বালানি হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণত প্রতি বছর শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যায় এবং একই সময়ে দেশে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাপ কম থাকায় এলপিজির ওপর মানুষের নির্ভরতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এবারের শীত মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম না ঘটায় বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
একই সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করা এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ও আগাম কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তের সাথে একমত পোষণ করেছে মন্ত্রণালয়। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম ঠিক কতটা কমবে তা বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের প্রেক্ষিতেই ট্যাক্স কাঠামো পরিবর্তনের এই চূড়ান্ত প্রস্তাবটি করা হলো।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন