সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,

খেলাপি ঋণ কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৫, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম

খেলাপি ঋণ কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

চড়া সুদে বিনিয়োগ সংকট

দেশের ব্যাংক ঋণে সুদের হার বর্তমানে ১৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে যা বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি সুদহার যৌক্তিকীকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগ ব্যয় কমানোর পথ খুঁজছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতির দেশগুলোতে ঋণের সুদ বহুগুণ বাড়লেও চীন যুক্তরাষ্ট্র বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতে তা তুলনামূলক অনেক কম। 

বাংলাদেশে ২০২৪ সাল থেকে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে স্থির রাখার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণের সুদ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে। এতে ব্যবসায়িক খরচ বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগের গতি মন্থর হয়ে পড়েছে যা সরকারের ১ কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন যে ১৫ শতাংশ সুদ দিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে লাভজনকভাবে টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন। এছাড়া যেসব ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে তারা আমানতের সুদ কমাতে পারছে না কারণ এতে আমানতকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন। 

অন্যদিকে বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর মতে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়া এবং খেলাপি ঋণের আধিক্য লক্ষ্য অর্জনে প্রধান অন্তরায়। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর হতে না পারলে বিনিয়োগ পরিস্থিতি টেকসই করা সম্ভব হবে না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পুরো শিল্পখাত ঝুঁকির মুখে পড়ছে যা শিল্প ও বিনিয়োগের স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন কেবল সুদের হার কমিয়েই বিনিয়োগ ফেরানো সম্ভব নয়। 

এর জন্য এক্সচেঞ্জ রেট বা ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি প্রয়োজন। একই সাথে শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে। খেলাপি ঋণ কমানো এবং নীতি সহায়তা কার্যকর করার মাধ্যমে যদি বিনিয়োগের পরিবেশ স্বাভাবিক না হয় তবে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। টেকসই উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সহায়তার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় তদারকিও এখন সময়ের দাবি।