সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,

সৌদি থেকে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল-গ্যাসোলিন কিনছে সরকার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

সৌদি থেকে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল-গ্যাসোলিন কিনছে সরকার

জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের অস্থিতিশীলতার মধ্যে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির বাইরে গিয়ে সৌদি আরব থেকে অতিরিক্ত ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন গ্যাসোলিন রয়েছে। 

এই জরুরি আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে এই জ্বালানি কেনা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট সংকটের মুখে অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় দেশীয় কূপ খননের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আমদানির বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। 

সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী চলতি মাসে জ্বালানি আমদানির জন্য ১৭টি জাহাজের এলসি খোলা হলেও মাত্র ৪টি জাহাজের জ্বালানি দেশে এসে পৌঁছেছে। এছাড়া ৬টি এলসির জ্বালানি এখনও অপেক্ষমাণ রয়েছে এবং বাকি ৭টি সরবরাহের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।আগামী এপ্রিল মাসের সরবরাহের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এপ্রিলের জন্য ১৫টি এলসি খোলা হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩টি জাহাজের আসার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিদ্যমান এই সংকট দ্রুত কাটাতে সরকার ভারত, চীন ও জাপানের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছিল। 

তবে সেসব দেশের মাধ্যমে সরবরাহ প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এবং দেশীয় চাহিদা মেটাতে জরুরি সরবরাহের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কয়েকটি কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা এবং যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত সরবরাহের সক্ষমতা থাকায় সৌদি প্রিন্সের মালিকানাধীন পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনালকে এই কাজের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তেলের এই নতুন চালান দেশে এলে বাজারের অস্থিরতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।