এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের নেতৃত্বে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের সফল যাত্রার অবসান ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন টিম কুক। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে অ্যাপল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬৫ বছর বয়সী টিম কুক সিইওর দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বর্তমান প্রধান জন টার্নাসকে মনোনীত করা হয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম সফল এই প্রধান নির্বাহীর বিদায় সংবাদে সিলিকন ভ্যালি থেকে শুরু করে বিশ্ব শেয়ারবাজারে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পদত্যাগের বিষয়ে দেওয়া এক আবেগঘন বিবৃতিতে টিম কুক বলেন, অ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং এমন একটি অসাধারণ ও বৈচিত্র্যময় প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়া ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তবে সিইওর পদ ছাড়লেও কুক অ্যাপল থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছেন না। তিনি প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে যুক্ত থাকবেন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরামর্শ প্রদান করবেন। এর আগে আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং নেটফ্লিক্সের রিড হেস্টিংসও একই ধরণের প্রক্রিয়ায় নিজেদের সিইও পদ হস্তান্তর করেছিলেন।অ্যাপলের পরবর্তী সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া ৫০ বছর বয়সী জন টার্নাস দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে রয়েছেন।
গত পাঁচ বছর ধরে তিনি আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকের প্রকৌশল ও হার্ডওয়্যার সংক্রান্ত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তত্ত্বাবধান করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে অ্যাপলের বেশ কিছু হার্ডওয়্যার পণ্য বাজারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে, যা তাঁকে কুকের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের সংকল্প ব্যক্ত করে টার্নাস বলেন, অ্যাপলের লক্ষ্য ও স্বপ্নকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার এই বড় সুযোগ পেয়ে তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।অ্যাপলের এই শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তন এমন এক চ্যালেঞ্জিং সময়ে ঘটছে যখন পুরো প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বড় ধরনের বিপ্লব চলছে।
২০০৭ সালে প্রথম আইফোন উন্মোচনের পর প্রযুক্তি খাতে বর্তমানে এআই-এর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি মৌলিক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে শুরুর দিকে অন্য জায়ান্টদের তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। প্রায় দুই বছর আগে ঘোষিত নতুন এআই ফিচারগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘসূত্রিতার সম্মুখীন হয়। এমনকি চলতি বছর আইফোনের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’-কে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে গুগলের প্রযুক্তিগত সহায়তাও নিতে হয়েছে অ্যাপলকে।
২০১১ সালে স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর যখন টিম কুক দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তখন তাঁর দূরদর্শিতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল। তবে টিম কুক প্রমাণ করেছেন তিনি কেবল একজন দক্ষ প্রশাসকই নন, বরং একজন সফল কৌশলবিদ। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝিতে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা অ্যাপল আজ টিম কুকের হাত ধরে অকল্পনীয় সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে। আইফোনের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং অ্যাপলের ইকোসিস্টেমকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার মূল কারিগর হিসেবে টিম কুকের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এখন দেখার বিষয়, নতুন সিইও জন টার্নাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই নতুন যুগে অ্যাপলকে কতটুকু এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন