নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ১০:১২ পিএম
ইসরায়েলি আগ্রাসনে ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার দক্ষিণাঞ্চলের বিধ্বস্ত জনগোষ্ঠীর ওপর এবার নেমে আসছে প্রকৃতির রোষানল। উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা একটি শক্তিশালী ঝড়ের কারণে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন সেখানে আশ্রয় নেওয়া ৯ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি।
তাদের অস্থায়ী শিবিরগুলো যেকোনো মুহূর্তে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার সতর্ক করে জানিয়েছেন।
যে দুই বছরের টানা যুদ্ধে এই অঞ্চলের অবকাঠামো এতটাই ধ্বংস হয়ে গেছে যে আসন্ন বৈরী আবহাওয়া খান ইউনুসসহ পুরো এলাকায় বিপর্যয়কর বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
খান ইউনুস পৌরসভার মুখপাত্র সাঈব লাক্কান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান উপকূল বরাবর এবং শহরের ভেতরে তাঁবুতে বসবাসরত হাজার হাজার পরিবারের জন্য এই ঝড় তাৎক্ষণিক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় নর্দমা নেটওয়ার্ক ধসে পড়েছে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকা ডোবাগুলো সামান্য বৃষ্টিও শোষণ করতে পারছে না সেখানে প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনি আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতিমধ্যে শুক্রবার ও শনিবার গাজার উপত্যকা ও নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করেছে যেখানে পানি দ্রুত জমে বের হওয়ার কোনো পথ পাবে না।পৌরসভার কর্মীদের জন্য এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। লাক্কান জানান খান ইউনুসের ৮৫ শতাংশেরও বেশি সড়ক পানি ও নর্দমা নেটওয়ার্ক ধ্বংস হয়ে গেছে এবং প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ এখনো পড়ে আছে।
ইসরায়েলি হামলায় শহরের অবকাঠামো এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে ঝড়ের আগেই শহরটি প্রায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে অবশিষ্ট নর্দমা স্টেশনগুলোও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। গত ১০ অক্টোবরের পর থেকে খান ইউনুস পৌরসভা নামমাত্র ডিজেল পেয়েছে যা দিয়ে মাত্র তিন দিন কাজ চালানো সম্ভব। কর্মীরা অস্থায়ী সরঞ্জাম দিয়ে মাটির বাঁধ তৈরি করে পানি সরানোর চেষ্টা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল।
শহরের ২ হাজার ২০০ বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন নালার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৯০০টিই ধ্বংস হয়ে গেছে। পৌরসভা জরুরি ভিত্তিতে মোবাইল পাম্প এবং ভারী যন্ত্রপাতির জন্য আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। সাঈব লাক্কান সতর্ক করে বলেছেন এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বন্যার সঙ্গে মানুষের মৃত্যুও নিশ্চিত হয়ে পড়বে। এদিকে জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে যুদ্ধে গাজার প্রায় ২ লাখ ৮২ হাজার বাড়ি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার ফলে লাখ লাখ মানুষ এমন সব তাঁবুতে শীত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন যা সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়তে পারে। অর্থের অভাবে এই বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর জীবনরক্ষাকারী সেবা চালিয়ে যাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন