জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসন ও রক্তপাত থামেনি। গত বছরের ১০ অক্টোবর গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ইসরাইল অন্তত ১ হাজার ১৯৩ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই তিন মাসে ইসরাইলের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির শর্তানুযায়ী সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার কথা থাকলেও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই গাজার বিভিন্ন পয়েন্টে হামলা অব্যাহত রেখেছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে গত ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পার হওয়া ৯৭ দিনের মধ্যে ৮২ দিনই গাজায় ছোট-বড় আক্রমণ চালিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মাত্র ১৫টি দিন ছিল সহিংসতামুক্ত যেখানে কোনো মৃত্যু বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলের পক্ষ থেকে এই অব্যাহত হামলার পরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে গাজায় এখনো ‘যুদ্ধবিরতি’ বহাল রয়েছে।
ওয়াশিংটনের এমন অবস্থানে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তাদের মতে চুক্তির তোয়াক্কা না করে ইসরাইল যেভাবে গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে তা যুদ্ধবিরতির ধারণাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অব্যাহত সহিংসতা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক মহলে শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যে একটি ১৫ সদস্যের ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন যা গাজার অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা তদারকি করবে।
ট্রাম্পের ঘোষিত এই বোর্ডে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা থাকলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র এখনো ভয়াবহ। গাজার সাধারণ মানুষ বলছেন যে প্রথম পর্যায়ের শান্তি পরিকল্পনার অনেক প্রতিশ্রুতি যেমন ত্রাণ সরবরাহ ও পূর্ণাঙ্গ সেনা প্রত্যাহার—এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
এরই মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা ও বোর্ড গঠন তাদের কাছে খুব একটা আশাব্যঞ্জক মনে হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে প্রতিদিন গড়ে ১২ বারের বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা চলতে থাকলে নতুন কোনো শান্তি পরিকল্পনা গাজায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে না। গাজার হাসপাতালগুলো এখনো প্রতিদিন হামলার শিকার হওয়া আহতদের ভিড়ে উপচে পড়ছে যা বৈশ্বিক মানবিক সংকটের এক চরম বহিঃপ্রকাশ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন