মার্চ ১৩, ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ ইতিমধ্যে দুই সপ্তাহে গড়িয়েছে যা শুরুতে ওয়াশিংটন অনুমান করতে পারেনি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে এই সংঘাত যে এতোটা দীর্ঘায়িত হবে এবং ইরান ও তার মিত্ররা এভাবে পাল্টা আঘাত হানবে তা মার্কিন হিসাবনিকাশের বাইরে ছিল। যুদ্ধের ময়দানে ইরানের সামরিক কৌশল এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ধারাবাহিক হামলা ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে যা পুরো অঞ্চলের যুদ্ধকালীন সমীকরণ বদলে দিয়েছে।
সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এলিয়াহ ম্যাগনিয়ার আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে যুদ্ধ এখন ১৪তম দিনে প্রবেশ করলেও যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে এমন দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত ছিল না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ইরান যে সাহসের সাথে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে তা ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি।
ম্যাগনিয়ার মনে করেন হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের কঠোর অবস্থান এবং হিজবুল্লাহর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরায়েলি বাহিনীর সক্ষমতাকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। তার মতে এই যুদ্ধে যে পক্ষ আগে পিছু হটবে বা দুর্বলতা দেখাবে শেষ পর্যন্ত পরাজয় তাদের কপালেই জুটবে।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে দেশের ভেতরেও নানা রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদির মতে এই যুদ্ধ মূলত ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর একটি পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত যা কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর শুরু করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে ইরান এই যুদ্ধ শুরু করেনি বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক এবং সামরিক অভিযান। মার্কিন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের কথা বললেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি মূলত তেহরানের ক্ষমতা কাঠামো পরিবর্তনের একটি বড় চেষ্টা। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল ইরান সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই বরং এর প্রভাব এখন পুরো বিশ্বরাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন