রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রধানমন্ত্রীর আসনে চাঁদা তোলার দুঃসাহস কাদের: নাহিদ ইসলাম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর আসনে চাঁদা তোলার দুঃসাহস কাদের: নাহিদ ইসলাম

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের কাছে একটি আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সরকারের শীর্ষ আসনের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক দখলদারিত্ব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। খোদ প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় এলাকার ভেতরে চাঁদাবাজি কিংবা সম্পত্তি জবরদখলের মতো দুঃসাহস কারা দেখাতে পারে, সেই সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি এই কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকে তিনি জুলাই আন্দোলনের মূল্যবোধের ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করেন।

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, রাতের আঁধারে জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথের অন্যতম সহযোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে তাণ্ডব চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে। এই হামলা ও লুটপাটের নেপথ্যে মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সামনে এসেছে—একদিকে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়া, অন্যদিকে বলপ্রয়োগ করে সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, দেশের সরকারপ্রধানের নিজের সংসদীয় আসনেই যদি প্রকাশ্যে এমন চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চলে, তবে সেই সন্ত্রাসীদের খুঁটির জোর কোথায়।

কোনো স্থাপনা নিয়ে বিরোধ থাকলে তা মীমাংসায় আইনি পথ বেছে নেওয়ার সাংবিধানিক সুযোগ রয়েছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি লেখেন, কোনো স্থাপনা যদি বাস্তবিক অর্থে অবৈধ হয়ে থাকে কিংবা কেউ অন্যায়ভাবে দখল করে রাখে, তবে তা উদ্ধারের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুস্পষ্ট সুযোগ ছিল। কিন্তু বৈধ আইনি পথ পুরোপুরি পরিহার করে সারা দেশে ক্ষমতাসীনদের এমন হিংস্র ও উন্মত্ত আচরণ রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মারাত্মক অশনিসংকেত দিচ্ছে। চাঁদাবাজির এই ধারাবাহিকতাকে তিনি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক আধিপত্যের রূপান্তর হিসেবে বর্ণনা করেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপির চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের রাজনীতি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল থেকেই এর সূচনা ঘটেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, যখন দেশের তরুণ প্রজন্ম রক্তক্ষয়ী বিপ্লব শেষে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল, ঠিক তখনই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী বাহিনী সারা দেশে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া চাঁদাবাজি ও দখলের সিন্ডিকেটগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে শুরু করে। তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী শোষণের সাম্রাজ্য দখল করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, বরং এর আওতা ও মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে আজ দেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষকে এক চরম জিম্মিদশার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে সম্পূর্ণ অনাস্থা প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় এই নেতা। তিনি মন্তব্য করেন যে বর্তমান সরকার, বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এসব নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের সুষ্ঠু বিচার চাওয়া সম্পূর্ণ অর্থহীন ও নিষ্ফল। তবে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, খুব দ্রুতই প্রিয় মাতৃভূমি এই অনৈতিক চাঁদাবাজ ও দখলদারদের শ্বাসরুদ্ধকর জিম্মিদশা থেকে চূড়ান্ত মুক্তি লাভ করবে।