সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে সাবেক প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিলড্রেনস একাডেমি স্কুলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পুরো ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। নিহত শিক্ষিকার নাম নিশাত ফাতিমা। ২৬ বছর বয়সী ওই নারী প্রায় এক বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষকতা করছিলেন। অভিযুক্ত যুবকের নাম মোহাম্মদ সৌদ, যার বয়স ২৭ বছর। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ ছিলেন সৌদ। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই তিনি এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যে জানা গেছে, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্যাগে পিস্তল লুকিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন সৌদ। এরপর তিনি সরাসরি ফাতিমার শ্রেণিকক্ষে গিয়ে তাকে বাইরে ডেকে আনার চেষ্টা করেন। ফাতিমা তাতে অস্বীকৃতি জানালে সৌদ জোরপূর্বক তার হাত ধরে টেনে দোতলার বারান্দায় নিয়ে যান। সেখানে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ফাতিমাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালান সৌদ। গুলিতে রক্তাক্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ওই শিক্ষিকা। ঠিক পরপরই নিজের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র চালিয়ে আত্মঘাতী হন সৌদ। গুলির বিকট শব্দে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা ভয়ে দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করেন। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পরিচালিত ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের চোখের সামনেই নৃশংস এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
ঘটনার পরপরই অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
লখিমপুর খেরি থানার পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে দেখার পাশাপাশি একজন বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে ব্যাগে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সুরক্ষিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে পারলেন, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যালয়টির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন