বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
গণমাধ্যম ও জনআস্থা

পেশাদারিত্বে জোর রাষ্ট্রপতির: গণমাধ্যম সংস্কারের তাগিদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

পেশাদারিত্বে জোর রাষ্ট্রপতির: গণমাধ্যম সংস্কারের তাগিদ

টেলিভিশন সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা অক্ষুণ্ণ রেখে জাতীয় দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি দেশগঠন এবং সামগ্রিক জনস্বার্থ সুরক্ষায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে বঙ্গভবনে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এই আহ্বান জানান। গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে গণমাধ্যমকর্মীরা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সাংবাদিকদের ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে দেশের সম্প্রচার সাংবাদিকতার অগ্রগতি, গণমাধ্যমের সামগ্রিক পরিস্থিতি, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার নানাদিক নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অতীতের কঠিন সময়ে পাশে থাকার স্মৃতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, সেই উত্তাল দিনগুলোতে সংবাদকর্মীদের সাহচর্য, অকৃত্রিম সমর্থন ও ভালোবাসা তিনি পেয়েছেন। বিগত কর্তৃত্ববাদী ও দমনমূলক শাসনামলে সাংবাদিকদের ওপর নেমে আসা জুলুম-নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, অতীতেও যেমন তাদের পাশে ছিলেন, বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও সবসময় থাকবেন।

দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অবসান ঘটিয়ে পারস্পরিক পরমতসহিষ্ণুতা, কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চা এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গেলে বাংলাদেশও উন্নত বিশ্বের কাতারে উন্নীত হতে পারত বলে তিনি মন্তব্য করেন। দীর্ঘ আন্দোলন ও আত্মত্যাগের পর নতুন দেশ গড়ার যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা সফল করতে সব ধরনের হীন রাজনৈতিক ও ব্যক্তিস্বার্থ পরিহার করার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, কেবল টেলিভিশনের সংখ্যা বাড়ালেই সম্প্রচার খাতের প্রকৃত অগ্রগতি হবে না, বরং সম্প্রচারের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তিনি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সংকটগুলো স্থায়ীভাবে সমাধানের ওপর বিশেষ জোর দেন। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের বড় ক্যানভাসে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং দূরদৃষ্টি দিয়ে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণ এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে প্রতিটি সম্প্রচার মাধ্যম যাতে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি। সংগঠনের নেতারা জানান, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার মূলত একটি ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্প্রচার সাংবাদিকদের সার্বিক কল্যাণ সাধনে কাজ করে আসছে। সংস্থাটি কর্মীদের পেশাগত উৎকর্ষ বজায় রাখতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং স্বাস্থ্যবীমাসহ নানা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা প্রদান করে থাকে।

রাষ্ট্রপতি তাদের এই কল্যাণমুখী উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সম্ভাব্য সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সাথে সংগঠনটিকে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর রাখতে নিজস্ব তহবিল বৃদ্ধি ও আয়বর্ধক নানা উদ্ভাবনী কর্মসূচি গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের প্রতিনিধিদলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফাহিম আহমেদ, ইলিয়াস হোসেন, তালাত মামুন, মাহমুদ হাসান, শরিফুল ইসলাম খান, শাহ আজিজুর রহমান কিরণ, জামানুল ফেরদৌস মানু, বেলায়েত হোসেন, নায়লা পারভীন পিয়া এবং সাইফুল শাকিল।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, প্রেস সচিব এবং সহকারী সামরিক সচিব উপস্থিত ছিলেন।