অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের আবাসন প্রকল্পে বেআইনি প্রবেশ, গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। একই মামলায় কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মো. মিজানুর রহমানসহ আরও তিন আসামিকে তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ।
গোয়েন্দা পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন। আদালতে আসামিদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জেহাদ হোসেন। আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলেও পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, অজ্ঞাত আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র এবং লুণ্ঠিত বিপুল মালামাল উদ্ধারের জন্য তাদের নিবিড় পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি।
হামলার দিন প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল। মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ মানিকদীর ইসিবি চত্বর সংলগ্ন নিউগিনি প্রোপার্টিজের প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতকারী জনতাবদ্ধ হয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এ সময় হামলাকারীরা এলোপাথাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার পাশাপাশি রামদা, ছোরা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর চড়াও হয়। হামলায় আবাসন প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর রক্তাক্ত হন। এরপর প্রকল্প কার্যালয় থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ক্যাবল, দামি ক্যামেরা ও পেশাদার মিডিয়া ইকুইপমেন্ট লুট করা হয় এবং চত্বরে থাকা যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
হামলাকারীরা একই এলাকায় অবস্থিত আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউন ফিস নামের স্টুডিওতেও অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। বাদীপক্ষের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এই সংঘবদ্ধ তাণ্ডবে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত প্রায় এক কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন হয়েছে এবং এক কোটি ৫০ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মূল্যবান মালামাল চুরি হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করেও গুলিবর্ষণ করে। এ সময় আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শটগানের পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রথমে দুই আসামিকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসাসহ আটক করে। পরবর্তীতে পৃথক অভিযানে আরও এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় আবাসন প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন