অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির খুচরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সদস্য কোম্পানি, পরিবেশক, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি বা নিয়মবহির্ভূতভাবে মজুত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনানুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়। েদেশে বর্তমানে এলপিজির আমদানি ও মজুত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে এক দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি সম্পন্ন হয়েছে, যার আগের মাস আগস্টে আমদানির পরিমাণ ছিল এক দশমিক ৫৮ লাখ মেট্রিক টন। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় দেশে গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ঘাটতির কোনো বাস্তব সুযোগ নেই।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরবর্তীতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী এক ভার্চুয়াল সভায় সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে তদারকির সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেন।
বাস্তব চিত্র ভিন্ন হলেও খুচরা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চরম নৈরাজ্য চলছে।
ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত দরের তোয়াক্কা না করে খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে ইচ্ছেমতো অর্থ আদায় করছেন। সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বারো কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারের মূল্য এক হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকায়। অর্থাৎ সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে সিলিন্ডার প্রতি ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সাধারণ ভোক্তার অধিকার রক্ষা এবং বাজার স্থিতিশীল করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যৌথ তৎপরতা বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলওএবি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন