বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

ইউপি নির্বাচন রমজানের আগেই ২ হাজার করার পরিকল্পনা

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

ইউপি নির্বাচন রমজানের আগেই ২ হাজার করার পরিকল্পনা

আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই ধাপে ধাপে সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী জানুয়ারিতে ভোটগ্রহণ শুরু করা গেলে পবিত্র রমজান মাসের আগেই তিনটি পৃথক স্লটে প্রায় দুই হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান যে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে প্রথম ধাপের ভোট করতে হলে তার অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে।

নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে পাবলিক পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার জানান যাতে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে, সেজন্য ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই নতুন বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকার ভোট মাঠে গড়াবে। রমজানের পূর্ববর্তী ধাপগুলো শেষ করে পরবর্তীতে আবার এসএসসি পরীক্ষা এবং অন্যান্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আগামী জুন মাসের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোট সম্পন্ন করার রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। 

ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের পৌরসভা নির্বাচনগুলোও আয়োজন করা হবে। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ইতিমধ্যে ইসির উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় হয়েছে। প্রাথমিক ধাপে মাঠে সেনাবাহিনী ডাকার কোনো পরিকল্পনা নেই, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদের পূর্বেই ভোট সম্পন্নের সাংবিধানিক দায়িত্ব রয়েছে কমিশনের।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান দেশের মোট চার হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রায় চার হাজার ২৭২টিতে আইনি মেয়াদের শেষ ১৮০ দিনের বাধ্যবাধকতার কারণে আগামী ৬ জুনের আগেই নির্বাচন শেষ করতে হবে। আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার উল্লেখ করেন যে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিষ্পত্তি হলে এই সংখ্যা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং প্রতিটি ধাপে বিপুল সংখ্যক ইউনিয়ন যুক্ত থাকবে। ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ২০২৬-এর সরকারি গেজেট জারি করেছে কমিশন।

নতুন সংশোধিত বিধিমালা অনুসারে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ সদস্য পদের জন্য জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর সীমা ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাজে বাধা বা হুমকি দিলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড কিংবা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে এবং সর্বোচ্চ সমভোটের ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পুনঃভোটের নির্দেশ দেবে নির্বাচন কমিশন।