এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১১:০৫ এএম
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশি প্রবাসী আব্দুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে পৌঁছেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। স্বজনদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর অশ্রুসিক্ত নয়নে নিথর দেহে নিজের প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরলেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা।
সকালে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মামুনের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয় এবং প্রয়োজনীয় সকল প্রকার সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।নিহত আব্দুল্লাহ আল মামুন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে।
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্নে বিভোর মামুন ১৫ বছর আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। সবশেষ পাঁচ বছর আগে প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। বাড়িতে স্ত্রী শারমিন আক্তার এবং ছয় বছর বয়সী অবুঝ সন্তান মাহেদী শেখ এখন কেবলই বাবার স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সামিল।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৮ মার্চ সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ইফতারের আগমুহূর্তে হুট করেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বিদ্রোহীরা। আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির সেই ক্যাম্পে কর্মরত মামুন হামলায় গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ নয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ১৭ মার্চ রাত সাড়ে ১১টায় লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, একই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোশাররফ হোসেন নামে আরও এক বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। তার মরদেহ এর আগে গত ২০ মার্চ দেশে আনা হয়েছে। মামুনের মরদেহটি প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও দাপ্তরিক কাজ শেষে আজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এক রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন করুণ মৃত্যুতে গফরগাঁওয়ের রসুলপুর গ্রামে এখন শোকের মাতম চলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন