রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনার রায় পড়া শুরু ট্রাইব্যুনালে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ১২:৪১ পিএম

গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনার রায় পড়া শুরু ট্রাইব্যুনালে

বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় পড়া শুরু হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলার রায় পড়া শুরু হয় সোমবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুন্যাল-১-এর বিচারক বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক রায় পড়া শুরু করেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিমের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হয়েছেন। এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন মোট আট হাজার সাতশো সাতচল্লিশ পৃষ্ঠার এক বিশাল অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। এর মধ্যে তথ্যসূত্র হিসেবে দুই হাজার আঠারো পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি হিসেবে চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ হিসেবে দুই হাজার সাতশো চব্বিশ পৃষ্ঠার নথি জমা দেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের মূল অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসব্যাপী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে শেখ হাসিনা বিক্ষোভকারীদের দমনের জন্য ব্যাপক এবং পদ্ধতিগত দমনপীড়ন চালানোর সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রসিকিউশনের মতে, এই নির্দেশ গণহত্যা, খুন এবং ভয়াবহ নির্যাতনের শামিল। অভিযোগে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের সকল বাহিনী, তার দল আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরাসরি নির্দেশ দেন।

এই নির্দেশের ফলেই দেশব্যাপী দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং পঁচিশ হাজারের বেশি মানুষ আহত, অঙ্গহানি ও নানা ধরনের ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ আগস্ট 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচিতে আশুলিয়ায় ছাত্রদের গুলি করে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।