জুলাই ১২, ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ঢাকা থেকে কলম্বোগামী ফিটস এয়ারের একটি ফ্লাইটে ১৮২ জন যাত্রীকে দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বদ্ধ বিমানে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ১১ জুলাই দিবাগত রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় তীব্র গরমে ও বদ্ধ পরিবেশে অনেক যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।কারিগরি ত্রুটির কারণে এই ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের।
ফ্লাইটটি রাত ২টা ১৫ মিনিটে উড্ডয়নের কথা থাকলেও সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বিত হয়। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের অপেশাদার আচরণ ও গাফিলতির কারণে তাঁদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিমানে আটকে থাকলেও যাত্রীদের খাবার বা প্রয়োজনীয় কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী যাত্রী সোনিয়া রিফাত জানান, ফ্লাইটে ওঠার পরপরই কারিগরি ত্রুটির কথা জানানো হয়। সমস্যা দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা না থাকা সত্ত্বেও যাত্রীদের বিমানের ভেতরেই আটকে রাখা হয়। তিনি তীব্র শ্বাসকষ্টে ভুগলেও বিমান থেকে নামার অনুমতি পাননি। অপর যাত্রী মেহরীন রহমান জানান, ডায়াবেটিসের রোগীসহ অনেক বয়স্ক ও শিশু যাত্রী দীর্ঘ সময় পানিবন্দি ও খাবারহীন অবস্থায় চরম সংকটে পড়েন।
এদিকে, ফিটস এয়ারের একজন মুখপাত্র রানার দাবি, ফ্লাইটটি ৪৫ মিনিট বিলম্বিত ছিল। তিনি বৈরী আবহাওয়া ও রানওয়ের সমস্যার কথা তুলে ধরে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের দেওয়া তথ্য ও বিমানবন্দরের তথ্যে দেখা যায়, ২টা ১৫ মিনিটের ফ্লাইটটি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করে। অর্থাৎ যাত্রীরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট বিমানের ভেতরেই ছিলেন।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানান, উড্ডয়নের আগমুহূর্তে প্রকৌশলীরা বিমানটির হাইড্রোলিক ফ্লুইড লেভেল কমে যাওয়ার কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত করেন। ত্রুটি মেরামত না হওয়া পর্যন্ত বিমানটি উড্ডয়নের অনুপযুক্ত ছিল। যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়ে তিনি জানান, সকাল ৬টার দিকে তাদের জন্য হালকা নাশতার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে ফিটস এয়ারের কর্মীদের দুর্ব্যবহারের কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আসেনি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন