সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ অত্যন্ত সফল ও সার্থক হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি জানান, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নতুন সরকারের রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে সফলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। চার দিনের সরকারি সফরে সব মিলিয়ে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন সরকারপ্রধান। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে ভাষণ প্রদানের পাশাপাশি ৭টি উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ সভায় বক্তব্য রাখা হয়। বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় কূটনীতি জোরদারে ১১টি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সক্রিয় ১০টি বৈশ্বিক সংস্থার প্রধান কর্মকর্তাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হয়।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আন্তর্জাতিক সভাগুলোতে অংশ নেওয়া বৈশ্বিক প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে গঠিত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের এই আন্তর্জাতিক সফর বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও অবস্থানকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বোয়িং বিমান ক্রয়ের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, বিমান কেনার এই চুক্তিটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং বাংলাদেশের চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ বোয়িংয়ের ভারী উড়োজাহাজ ব্যবহার করে আসছে এবং বর্তমান বিমান বহরের চাহিদা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক এভিয়েশন বাজারে আন্তর্জাতিক রুট বাড়ানো এবং দেশকে একটি শক্তিশালী এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে মিশ্র বিমান বহর থাকা অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, বিমান ক্রয়ের এই উদ্যোগে কোনো অপ্রকাশ্য বা গোপন বিষয় নেই এবং সবকিছু খোলামেলাভাবেই জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। যাত্রীসেবার মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং জাতীয় বিমান বহর আরও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও বিমান যুক্ত করা হবে।