সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত সাতটি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান। সোমবার সকালে বঙ্গভবনে এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ইউরোপীয় কূটনীতিকরা আন্তরিক অভিনন্দন জানান। শুভেচ্ছাবার্তার জন্য কূটনীতিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন রাষ্ট্রপতি।
বাংলাদেশ, ইউরোপীয় দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার চলমান সম্পর্কের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে বহুমাত্রিক এই অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও সুসংহত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
দেশে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের পরিধি বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সাথে দক্ষ জনশক্তির জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বিস্তৃত করতে ইইউর ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উদ্যোগে আরও বেশি সদস্য দেশকে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ জানান।
জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সাথে পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তারা। উভয় অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান কূটনীতিকরা।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংস্কার ও বিচার বিভাগীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সক্রিয় সম্পৃক্ততা বজায় রাখার কথা জানান রাষ্ট্রদূতরা। রাষ্ট্রপতি সরকারের পক্ষ থেকে এসব ইতিবাচক সংস্কার উদ্যোগে পূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সাহায্য বৃদ্ধির অনুরোধ জানান রাষ্ট্রপতি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জোরালো ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তিনি। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ রূপান্তর, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, আধুনিক শিক্ষা, সমুদ্র নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট নিয়ে পারস্পরিক মতামত বিনিময় করা হয়। গণতন্ত্র রক্ষা, মানবাধিকারের স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার প্রতি আনুগত্য প্রকাশের অঙ্গীকার করে উভয় পক্ষ।
সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লৎস, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইউরিখ ভান বোসেল, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়াগা ওচহোয়া ডি চিনচিত্রু এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স অংশ নেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন