সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
পঞ্চগড় সদর উপজেলার কাজলদিঘী টুনিরহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি পুরাতন কোয়ার্টার ভাড়া নিয়ে জমি দখল ও উল্টো হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভাড়াটিয়া হিসেবে সেখানে উঠে এখন তিনি নিজেই জমির মালিকানা দাবি করছেন বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির টুনিরহাট বাজারের ভূমি অফিসের বিপরীতে ২ দশমিক ৭৫ শতক জমির ওপর একটি পুরাতন কোয়ার্টার ছিল। সেখানে হাফ ওয়াল টিনের চালা বিশিষ্ট দুটি ঘর ও একটি রান্নাঘর নির্মাণ করা হয়।
আগে বাইরে থেকে আসা শিক্ষকেরা সেখানে বসবাস করলেও তারা অবসরে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ঘরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। ২০১০ সালের মে মাসে বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী এলাকার শাহ আলম নামের এক ব্যক্তির কাছে মাসিক ৫০০ টাকা ভাড়ায় পাঁচ বছরের জন্য কোয়ার্টারটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই সময় অগ্রিম জামানত হিসেবে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং স্থাপনার কোনো পরিবর্তন না করার শর্তে ভাড়া ব্যাংকের হিসাবে জমা দিতে বলা হয়। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও শাহ আলম কোয়ার্টার ছাড়েননি এবং ভাড়াও পরিশোধ করছেন না বলে অভিযোগ কর্তৃপক্ষের।
বিদ্যালয়ের অভিযোগ, পরবর্তীতে স্থানীয় মাসুদ রানা নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে দেড় শতক জমি কেনার কথা বলে বিদ্যালয়ের স্থাপনাসহ মোট ৬ শতক জমি দখলে নেন শাহ আলম। বর্তমানে টুনিরহাট হাড়িভাসা সড়কের পাশে ওই জায়গায় একটি ছোট চায়ের দোকান পরিচালনা করছেন তিনি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহন মিনজী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সরেজমিন তদন্ত শেষে তিনি বিদ্যালয়ের জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও তা মানা হয়নি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
জমির দখল ছাড়তে বললে শাহ আলম উল্টো বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র জাহিদ হাসান প্রধান জনি জানান, তার দাদা এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় জমি দান করেছিলেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুরাতন কোয়ার্টারটি শাহ আলমকে ভাড়া দিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছে। ২০১৭ সালে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দেড় শতক এবং আরেকজনকে দেড় শতক জমি লিজ দেয়। কিন্তু শাহ আলম পুরো জায়গা দখল করে রাখায় তারা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারছেন না। জমি উদ্ধারে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদ আলী শাহ জানান, বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জমিতে গেলে শাহ আলম আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং মানহানির ভয়ে শিক্ষকেরা সেখানে যেতে পারছেন না। ২০১৭ সালে অন্য দুইজনকে দোকানঘরের জন্য লিজ দেওয়া হলেও তারা জমিতে নামতে পারছেন না।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে শাহ আলম দাবি করেছেন, তিনি কোনো জমি দখল করেননি। তার ভাষ্য, তিনি মূল মালিকদের কাছ থেকে জমি কিনেছেন এবং তার কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। সেখানে দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করলেও তাকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং ঘন ঘন লোকজন এসে বিরক্ত করছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে শিক্ষা কার্যালয় অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে এলে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন