শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
জাতিসংঘ গোলটেবিল বৈঠক

জাতিসংঘে পিঙ্ক বাস সেবার কথা তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

জাতিসংঘে পিঙ্ক বাস সেবার কথা তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশে নারীদের জন্য সম্প্রতি চালু হওয়া বিশেষ গণপরিবহন ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’-এর ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গণপরিবহনে নারীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সেবা চালু করা হয়েছে বলে বিশ্বমঞ্চে উল্লেখ করেন তিনি।

শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আলোচনার বিস্তারিত জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারী ও শিশু নির্যাতন’ শীর্ষক একটি মন্ত্রীপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সভার আয়োজন করে ক্রোয়েশিয়া ও ইউএন উইমেন। বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে গৃহীত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন পদক্ষেপের বিবরণ দেন। তিনি জানান, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা, স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া, বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান, নির্যাতনের শিকারদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতকরণ, শারীরিক পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সিলিং সেবাকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিভিত্তিক হয়রানি মোকাবিলা, তদন্ত ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক ঐচ্ছিক নির্দেশিকা প্রণয়নে ‘ঢাকা ডায়ালগ’ নামের একটি দূরদর্শী উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে এই ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নে গঠিত ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানান তিনি।

সংঘাতকবলিত অঞ্চলে নারীদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীদের গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথা স্মরণ করেন শামা ওবায়েদ। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা নারী ও শিশুর মৌলিক নিরাপত্তা, মানবিক সেবা ও সুরক্ষায় সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ক্রোয়েশিয়া ও ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই গোলটেবিল বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট আধুনিক ডিজিটাল ঝুঁকি—যেমন সাইবার হয়রানি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানহানি, আর্থিক বা সামাজিক প্রতারণা এবং মানসিক নিপীড়ন কার্যকরভাবে প্রতিরোধের বৈশ্বিক কৌশল নিয়ে গভীর আলোচনা করেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।