অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৯:১৪ পিএম
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও আধুনিক আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে বিদ্যমান তিনটি পৃথক আইন একীভূত করে একটি সমন্বিত ‘আনসার বাহিনী আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে বাহিনীর অডিটোরিয়ামে নবনির্মিত ‘অগ্রযাত্রা ভবন’, ‘প্রান্তিক সংযোগ’ পরিষেবা, ‘প্রান্তিক শক্তি’ ও ‘ভ্রাম্যমাণ তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ সেন্টার’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানান।
আইনি কাঠামোর আধুনিকায়ন বাহিনীর পরিচালন শৃঙ্খলাকে নতুন মাত্রা দেবে। বর্তমানে বাহিনীটি ‘আনসার বাহিনী আইন, ১৯৯৫’, ‘আনসার ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৩’ এবং ‘গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন, ১৯৯৫’ শীর্ষক তিনটি পৃথক আইনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। একাধিক আইনের জটিলতা নিরসন করে একটি একক সমন্বিত আইন এবং এর অধীনে আধুনিক বিধিমালা প্রণয়ন করা হলে বাহিনীর আইনি ভিত্তি যেমন মজবুত হবে, তেমনি সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাহিনীর অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে ঢাকার তেজগাঁওয়ে তিন দশমিক চার দুই আট একর পরিত্যক্ত জমিতে আধুনিক আনসার সদর দপ্তর নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। নতুন এই সদর দপ্তরে থাকবে বহুতল আধুনিক ভবন ও বিশেষায়িত কমান্ড সেন্টার। সেখান থেকে কেন্দ্রীয় অপারেশন পর্যবেক্ষণ, অন্যান্য বাহিনীর সাথে দ্রুত তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনা করা যাবে।
বাহিনীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গণযুদ্ধ বা পিপলস ওয়ারফেয়ার দর্শনের আলোকে জনগণকে সম্পৃক্ত করে জাতীয় নিরাপত্তা গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় আনসার ও ভিডিপি আজ দেশের সর্ববৃহৎ জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ১৯৯৫ সালে পৃথক তিনটি আইন প্রণয়ন করে এবং ২০০৪ সালে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’ দিয়ে বাহিনীর ভিত্তিকে সুসংহত করে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সদিচ্ছায় বাহিনীটিতে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ ও যুগোপযোগী আইনি সংস্কার সাধিত হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন, ধর্মীয় উৎসব, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনসমাগমস্থলের নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের নিষ্ঠার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত সুরক্ষা, মাদক ও চোরাচালান রোধ, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, উচ্ছেদ অভিযান, অপরাধ দমন, নিখোঁজ শিশু উদ্ধার এবং দালালবিরোধী পদক্ষেপেও এই বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় রয়েছেন।
দেশের অদক্ষ জনশক্তিকে দক্ষ সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে এক লাখ টিডিপি স্বেচ্ছাসেবককে আধুনিক প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি জাপানি ভাষা শিক্ষা, ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বহুমুখী সামাজিক ও অর্থনৈতিক সেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ পিএসসি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন