অক্টোবর ৩, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
আমদানিনির্ভর ফলের জোগান বাড়িয়ে বাজারদর নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শনিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাজারে মাল্টা ও খেজুরসহ ফলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আমদানিকারকদের দ্রুত ঋণপত্র বা এলসি খুলে আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সাথে খেজুর আমদানির শুল্ক-কর সংক্রান্ত সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহেই জানিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকায় পৌঁছানো নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে সরাসরি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমদানি ব্যয়, শুল্ক-কর ও অন্যান্য খরচ যুক্ত করার পরও কীভাবে এই ফলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেল তা খতিয়ে দেখতে হবে। বাজারে অস্বাভাবিক বা অযৌক্তিক মূল্যে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
জবাবে আমদানিকারকরা জানান, তীব্র সরবরাহ ঘাটতির কারণেই বাজারে মাল্টার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিনের স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টা প্রয়োজন হলেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার ফল দেশে এসে পৌঁছেছে। আমদানিকারকরা উল্লেখ করেন, মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সমুদ্রগামী জাহাজ ও বন্দরে নানা জটিলতা এবং আগের চালানে ব্যাপক লোকসানের কারণে অনেকে আমদানি সীমিত করতে বাধ্য হয়েছেন। এর পাশাপাশি পচনশীল পণ্য হওয়ায় দীর্ঘ পরিবহন ও সংরক্ষণের সময় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের এই যুক্তি শোনার পর মাল্টার বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়াতে বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি সম্প্রসারণের তাগিদ দেন। আসন্ন মৌসুম ও রমজানের বাড়তি চাহিদা সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের এখনই খেজুর আমদানির পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য বা অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু নির্ধারণের জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সাথে বিশেষ বৈঠকে বসবে। বৈঠকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসমূল্য যাচাই করে গ্রেডভিত্তিক যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শুল্কায়ন প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে কোনো আমদানিকারক অন্যায্য মূল্যায়নের শিকার না হন এবং একই সাথে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টাও যেন বন্ধ থাকে। কোনো পক্ষ কারসাজির আশ্রয় নিলে পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থার সংকট তৈরি হয় উল্লেখ করে তিনি উভয় পক্ষকে সততার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারদর ও প্রকৃত ক্রয়মূল্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত শুল্কায়ন ব্যবস্থা কার্যকর করার কাজ চলছে। আমদানিকারকরাও উল্লেখ করেন যে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিলম্বের কারণে দ্রুত শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়া প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন