শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

নিউইয়র্কে ১১ দেশের নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম

নিউইয়র্কে ১১ দেশের নেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফরকালে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিয়ে ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের এই কূটনৈতিক সফরে মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিশ্বনেতারা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে গ্রহণ করেছেন।

মুখপাত্র জানান, সফরসূচির মধ্যে সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, চারটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে বেশ কয়েকটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সমন্বয়, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক শান্তি সুরক্ষার বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সাথেও একটি বিশেষ প্রাতরাশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের নিয়ে বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান চেজের আয়োজনে ওই আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ ও পরিবেশ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানানো হয় এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনায় মানবাধিকার সমুন্নত রাখা, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণের বিষয়টি উঠে আসে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সফরটিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট তিন দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরাই তাকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এসব বৈঠকে প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার রক্ষা, নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, খনিজ খাতে যৌথ অংশীদারিত্ব এবং বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের মূল কর্মসূচিতেও বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দৃশ্যমান।

সাধারণ পরিষদ-সংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে পাঁচটিতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বক্তব্য দেন। সফরকালে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনার এবং গেটস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের উদ্যোগে রোহিঙ্গা সংকট এবং মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধাত্রীবিদ্যা নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি, ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত অধিবেশনেও অংশ নেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমান আটটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চারটিতে বক্তব্য রাখেন। প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য বিদেশি প্রতিনিধিদের প্রশংসা কুড়ায়।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, একটি সীমিত প্রতিনিধিদল নিয়ে চার দিনে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা প্রায় ৮০টি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছেন এবং প্রতিটি ফোরামে দেশের স্বার্থকে এগিয়ে নিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ওয়াশিংটনে প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা, জাতিসংঘে উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।