সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৯:৫১ এএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পুরো পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছাবে। এই সময়ের মধ্যে মোট সাতটি ফ্লাইটের মাধ্যমে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রাশিয়া থেকে দেশে আনার কথা রয়েছে। এর সঙ্গে প্রথম ইউনিটের রিলোডের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু অতিরিক্ত জ্বালানিও আসবে। আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি বা এয়ার স্পেস না পাওয়ায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত একটি বিশেষ জ্বালানিবাহী কার্গো ফ্লাইট আসতে না পারলেও প্রকল্পের মূল অগ্রগতিতে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছে রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ফ্লাইট পেছানোর এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে এলেও প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে না। এর আগে ইউনিট-১ এর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি রাশিয়া থেকে এনে প্রকল্প এলাকায় সফলভাবে লোড করা হয়েছে। প্রথম ইউনিটে লোড করা জ্বালানির সাইকেল ১২ মাস হওয়ায় নির্দিষ্ট মেয়াদ পর এর একটি অংশ সরিয়ে পুনরায় স্থাপন করতে হয়। সে কারণে ইউনিট-১ এর রিলোডের জন্য প্রথম দুটি ফ্লাইটের একটি গত বৃহস্পতিবার ও দ্বিতীয়টি আগামী ১ অক্টোবর আসার কথা ছিল। এর পরপরই ইউনিট-২ এর জ্বালানি আগামী ৮ অক্টোবর থেকে দেশে পৌঁছানোর তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। কাছাকাছি সময়ে চালানগুলো আসার প্রক্রিয়া চলায় সামগ্রিকভাবে এটিকে দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর জ্বালানি গ্রহণের জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন। তবে স্পর্শকাতর এই পারমাণবিক পদার্থ আকাশপথে পরিবহনের সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্র সংক্রান্ত জটিলতায় ফ্লাইটটি যাত্রা করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে রাশিয়া রূপপুর প্রকল্প এলাকায় জ্বালানি পৌঁছে দিতে বাধ্য হলেও দেশের অভ্যন্তরে পারমাণবিক উপাদানের নিরাপত্তা বিধানের মূল দায়িত্ব পালন করে রাষ্ট্র। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী না থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে সেই দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখার পরই জ্বালানি পরিবহন করতে হয়।
রোসাটমের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে যে ফ্লাইটটি চলতি সপ্তাহে নাও আসতে পারে। তবে ড. কবীর হোসেন বলেন, পারমাণবিক জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হয় বলে মৌখিক বার্তায় কাজ চলে না। ফলে পরবর্তী ফ্লাইট কবে আসবে তা লিখিতভাবে জানানোর জন্য রাশিয়ান সংস্থাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও পরিষ্কার করেন যে, প্রথম ইউনিটে পাঁচ মাস আগেই সফলভাবে জ্বালানি লোড করা হলেও তা এখনও বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়নি।
ফলে জ্বালানি আসার ক্ষেত্রে এই সাময়িক বিলম্ব মূল উৎপাদন সময়সূচিতে কোনো সংকট বা প্রভাব ফেলবে না। রোসাটমের জনসংযোগ সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান ট্রাইউইন গ্রুপ জানিয়েছে, আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের সময়সীমার মধ্যেই সাতটি বিশেষ ফ্লাইটে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত ১৬৩টি অ্যাসেম্বলিসহ অতিরিক্ত অংশ দেশে পৌঁছাবে। স্পর্শকাতর এই চালানে কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না বলে সংস্থাটি বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন