জুন ১৭, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে এবার অন্যতম হেভিওয়েট তকমা নিয়েই হাজির হচ্ছে শক্তিশালী পর্তুগাল ফুটবল দল। টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নিজের পাশে পাচ্ছেন এমন একঝাঁক চটপটে তরুণ তুর্কি, যা তাঁর দীর্ঘ খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারে আগে কখনো ঘটেনি। বর্তমান ফুটবল বিশ্বে ৪০ বছর পার করে ৪১ বছরে এসে প্রথম সোনালি বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়ার এক রোমাঞ্চকর স্বপ্নে বিভোর এই পর্তুগিজ যুবরাজ।
টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক দিন আগে বেশ দেরিতে পর্তুগিজরা বিশ্বকাপের বিমান ধরলেও নিজেদের রণকৌশলের সব বক্সে টিক মার্ক দিয়েই দেশ ছেড়েছে কোচ রবার্তো মার্তিনেজের শিষ্যরা।বিশ্বমঞ্চে প্রথমবার বিশ্বজয়ের যে অনন্য স্বপ্ন পর্তুগিজ সমর্থকেরা দেখছেন তা মোটেও অযৌক্তিক নয়।দলের এই বিশ্বজয়ের সমীকরণে প্রথম বড় শক্তি হলো নুনো মেন্দেস ও জোয়াও কানসেলোর মতো আধুনিক ফুটবল দুনিয়ার অন্যতম সেরা ফুলব্যাক জুটি। এর পাশাপাশি উইং আক্রমণে প্রতিপক্ষের বক্সে কাঁপন ধরাতে প্রস্তুত রয়েছেন রাফায়েল লিয়াও, জোয়াও ফেলিক্স ও পেদ্রো নেতোর মতো মুহূর্তের জাদুতে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া পরীক্ষিত উইঙ্গাররা।
দলের ভেতরের বোঝাপড়ায় ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেই বা পিএসজি কানেকশন বড় ভূমিকা রাখছে, যেখানে ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও গনসালো রামোসরা ক্লাব ফুটবলের চেনা সুর জাতীয় দলেও টেনে এনেছেন। মাঝমাঠের গতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিপক্ষের আক্রমণ অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে এই পিএসজি মিডফিল্ডারদের জুড়ি মেলা ভার। গোলবারের নিচেও পর্তুগালের রয়েছে দিয়োগো কস্তার মতো এক দুর্ভেদ্য ও ঠান্ডা মাথার বিশ্বস্ত দেয়াল।
পর্তুগাল দলের এবারের স্কোয়াডটি অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় ও ভারসাম্যপূর্ণ ধাতুতে গড়া হয়েছে। দলের প্রতিটি পজিশনে শুধু যোগ্য বিকল্পই নেই, বরং বের্নার্দো সিলভার মতো একাধিক পজিশনে সমান কার্যকর ভার্সেটাইল ফুটবলাররা মার্তিনেজের কৌশল বদলানোর মূল চাল হিসেবে কাজ করবেন। দলের আক্রমণভাগের সুর আর ছন্দ পুরোটাই সুনিপুণভাবে আবর্তিত হবে মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজের দূরদর্শী পাসিং ও প্লেমেকিং দক্ষতার ওপর ভর করে। এছাড়া সম্প্রতি এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তারকা খেলোয়াড় দিয়োগো জোতার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করার আবেগ এবার পর্তুগিজ দলের অন্যতম প্রধান অদৃশ্য চালিকাশক্তি ও অনুপ্রেরণা। ডাগআউটে থাকা স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড কোচ রবার্তো মার্তিনেজও বেলজিয়ামের স্বর্ণযুগকে ট্রফি জেতাতে না পারার আক্ষেপ এবার পর্তুগালকে দিয়ে ঘোচাতে মরিয়া।
ক্যারিয়ারে হাজার গোলের অবিশ্বাস্য মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য বৈশ্বিক ট্রফি জেতার এটাই সম্ভবত শেষ ও মহাকাব্যিক সুযোগ। ফুটবল বিধাতা হয়তো তাঁর দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের শেষ বাজি সফল করার জন্যই পাশে এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ শক্তিশালী দল তৈরি করে দিয়েছেন। দলের এই সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে রোনালদো বিশ্বমঞ্চে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেবেন এবং তাঁর এই শেষ বাজি সফল হলে ফুটবল ইতিহাস এক অনন্য রোমান্টিক সমাপ্তি পাবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন