শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
দুর্যোগ সতর্কতা

দেশজুড়ে ভারী বর্ষণের শঙ্কা, তলিয়ে যাবে যেসব অঞ্চল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১০:০৬ এএম

দেশজুড়ে ভারী বর্ষণের শঙ্কা, তলিয়ে যাবে যেসব অঞ্চল

ছবি: Ai

সাগরের নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা রাজধানীসহ সারাদেশে বজ্রসহ ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। টানা বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। দুর্যোগের এই শঙ্কা তৈরি হয়েছে মূলত একটি নিম্নচাপের কারণে। ২৫ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির দেওয়া সতর্কবার্তায় জানানো হয়, ভারতের উড়িষ্যা ও উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে দুর্বল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। 

এটি আরও অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের মধ্যপ্রদেশ, নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। এর প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে এবং উজানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তা অববাহিকার এই সতর্ক সীমার মধ্যে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলো হলো—নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি বাড়লেও ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী দুই দিন এসব নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে এবং তৃতীয় দিন থেকে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমেছে এবং যমুনার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী পাঁচ দিন এই দুই নদের পানি কমতে পারে। গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে। গঙ্গার পানি আগামী দুই দিন কমে পরবর্তী তিন দিন বাড়তে পারে, তবে পদ্মার পানি আগামী দুই দিন কমার পর পরবর্তী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। সেইসঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে, যা আগামী তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।