রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঘোড়াঘাটে যান্ত্রিকতার ভিড়েও টিকে আছে গরুর হাল

ফাহিম হোসেন রিজু

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

ঘোড়াঘাটে যান্ত্রিকতার ভিড়েও টিকে আছে গরুর হাল

গরুর হালে জমি চাষ

আধুনিক কৃষিযন্ত্রের জয়জয়কারের এই সময়ে গ্রামবাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী গরুর হাল দিয়ে জমি চাষের দৃশ্য এখন বিলুপ্তপ্রায়। তবে যান্ত্রিকতার এই ভিড়েও দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের বরাতীপুর গ্রামে এখনো টিকে আছে সেই প্রাচীন দৃশ্য। সেখানে পরম মমতায় গরুর হাল দিয়ে জমি চাষ করে বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন কৃষক সাহাদুল ইসলাম।

সম্প্রতি বরাতীপুর গ্রামের মাঠে দেখা যায়, একজোড়া গরু ও কাঠের লাঙল নিয়ে নিবিড় মনে জমি চাষ করছেন সাহাদুল। আধুনিক পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টরের শব্দ ছাপিয়ে সেখানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে কৃষকের সেই চিরচেনা হাঁকডাক।

কৃষক সাহাদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ দ্রুত হলেও গরুর হাল দিয়ে জমি চাষ করলে মাটির উর্বরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। এছাড়া এতে চাষাবাদের খরচও তুলনামূলক কম এবং গবাদিপশু পালনেও আগ্রহ তৈরি হয়। স্থানীয় কৃষকদের মতে, ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলারের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে অনেক পুরনো ঐতিহ্য হারিয়ে গেলেও সাহাদুলের মতো কিছু কৃষক এখনো পরিবেশবান্ধব এই কৃষি পদ্ধতি টিকিয়ে রেখেছেন।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান বলেন, "গরুর হাল দিয়ে জমি চাষ একটি প্রাচীন ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এতে মাটির স্বাভাবিক গঠন ঠিক থাকে এবং উর্বরতা রক্ষা পায়। আধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি এমন টেকসই ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির চর্চা অব্যাহত থাকলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ও অনেকটা লাঘব হবে।বরাতীপুর গ্রামের ফসলের মাঠে গরুর হালের এই দৃশ্য যেন যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।