শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেবীগঞ্জে ধানক্ষেতে নারী মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন গ্রেপ্তার ১

আবু সালেহ মোঃ রায়হান

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

দেবীগঞ্জে ধানক্ষেতে নারী মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন গ্রেপ্তার ১

ছবি: দিনাজপুর টিভি

অনৈতিক কাজের সময় মারা যান প্রেমিকা, গ্রামবাসীর সাথে নিজেও দেখে আসেন মরদেহ, ডিবির অভিযানে পরকীয়া প্রেমিক গ্রেপ্তার

পঞ্চগড় প্রতিনিধি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ধানক্ষেত থেকে নুর বানু ওরফে হাসিনা (৫০) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাহাবুল হক (৩২) নামে ওই নারীর পরকীয়া প্রেমিককে শনিবার ভোররাতে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। শনিবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায় জেলা পুলিশ।

নিহত নুর বানু ওরফে হাসিনা দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া বালাপাড়া বাজার এলাকার নুর রশিদের স্ত্রী। পুলিশ জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির অদূরের এক ধানক্ষেতে ওই নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় মামলা করে ওই নারীর ছেলে। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়েন্দা পুলিশ ওই নারীর পরকীয়া প্রেমিক মাহাবুলকে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। 

আসামির দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, মাহাবুল চাষাবাদ করা ট্রাক্টর গাড়ির চালক এবং হাসিনার প্রতিবেশী। ৫-৬ মাস ধরে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে হাসিনা মুঠোফোনে মাহাবুলকে ফোন করে ধানক্ষেতের ওই স্থানে আসতে বলে। সেখানে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জমির আলের ওপর তোলার সময় তার ঘাড় ভেঙে যায় এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান হাসিনা। পরে মাহাবুল তার মুঠোফোন থেকে নিজের করা কল নম্বর মুছে দিয়ে ফোনটি ওই নারীর পোশাকের পকেটে রেখে বাড়িতে চলে যান। সকালে একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখেও আসেন মাহাবুল। পঞ্চগড় গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা ১২ ঘণ্টার মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি।

 আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। ওই নারীর কীভাবে মৃত্যু হয়েছে তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।