শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার

ইলিশ ফেস্টে নয়াদিল্লিতে উন্মোচিত হলো নতুন বই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০৯:১১ পিএম

ইলিশ ফেস্টে নয়াদিল্লিতে উন্মোচিত হলো নতুন বই

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক বর্ণাঢ্য ইলিশ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের মৈত্রী মিলনায়তনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে ভারতীয় রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। উৎসবের আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত বিশিষ্ট ভারতীয় ব্যক্তিরা ঢাকা থেকে প্রকাশিত আ ফিশ কলড ইলিশ শীর্ষক একটি বিশেষ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

ঐতিহ্যের স্বাদ মিলল রসনায়। বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রসনাবিলাসের অন্যতম অনুষঙ্গ এই মাছকে ঘিরে পুরো আয়োজনে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ আতিথেয়তার আবহ তৈরি হয়। অনুষ্ঠানে ইলিশের হরেক পদের খাবারের পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশৈলীর বৈচিত্র্য আমন্ত্রিতদের সামনে তুলে ধরা হয়। আগত অতিথিরা খাবারের স্বাদ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতির নানা দিক উপভোগ করেন।

উৎসবের মিলনমেলায় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক এম. জে. আকবর, সাবেক কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ মণি শংকর আইয়ার, মানবাধিকারকর্মী ও সমাজচিন্তক সাইদা হামদি, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত রনেন সেন এবং বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী আশিস নন্দীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

আয়োজনে অংশ নেওয়া অতিথিরা ইলিশের স্বাদ ও আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ভারতের বন্ধুদের সামনে কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে। আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন বাংলাদেশ ও ভারতের সাধারণ মানুষের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বইটির মোড়ক উন্মোচন শেষে হাইকমিশনার মু. রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, প্রকৃত অর্থে ইলিশ মাছ বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এটি দেশের সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি জানান, বাংলাদেশে ইলিশের জন্য পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য রয়েছে। মাছটির নিরাপদ প্রজনন ও সামগ্রিক উৎপাদন বাড়াতে সরকারের গৃহীত বহুমুখী পদক্ষেপের সুবাদে এর কার্যকর সংরক্ষণ ও উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ সময় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।