সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাঁকে বহনকারী ফ্লাইটটি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডাক্তার জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরাও দেশে পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে তাঁর নিউইয়র্কের বহুমুখী কূটনৈতিক মিশন সম্পন্ন হলো। এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন, যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই হয়ে বাংলাদেশে আসে।
সফরকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বিশ্বব্যাপী মানবিক সংকট নিরসন এবং বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে তিনি অস্ত্র নয়, বরং কার্যকর সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দেন।
ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন সরকারপ্রধান। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে এবং সবার জন্য সমান অধিকারের সুযোগ তৈরি করে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকারের বিশেষ কৌশল হিসেবে রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন তথা থ্রি-আর ধারণার রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করেন তিনি।
বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্মরণ করিয়ে দেন যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই দীর্ঘস্থায়ী এই আঞ্চলিক মানবিক সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান। তাদের স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরে যাওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বৈশ্বিক অংশীদারদের আরও সক্রিয় ও সমন্বিত সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
নিউইয়র্ক অবস্থানকালে সাইডলাইনে বেশ কয়েকটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। একই সাথে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে পৃথক আরেকটি বৈঠকে মিলিত হয়ে সীমান্ত ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় সম্পন্ন করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন