শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
কৃষি অর্থনীতি ও উদ্ভাবন

মেহের সাগর কলা চাষে কৃষকের ভাগ্যবদল

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

মেহের সাগর কলা চাষে কৃষকের ভাগ্যবদল

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় উন্নত জাতের মেহের সাগর কলা চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

স্বল্প পরিচর্যা, কম রোগবালাই এবং বাজারে ভালো চাহিদার কারণে এই জাতের কলা চাষে চাষিদের আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী অন্যান্য জাতের তুলনায় মেহের সাগর জাতের কলার ফলন অনেক বেশি। এই গাছের ছড়িগুলো বেশ লম্বা হয় এবং প্রতিটি ছড়িতে কলার সংখ্যা থাকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। ফলন আসার পর কলার গড়ন সুষম থাকে এবং বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত সহজে দাগ বা নষ্ট হয় না। ফলে পাইকাররা ক্ষেত থেকেই সন্তোষজনক মূল্যে এসব কলা সংগ্রহ করেন।

চাষপদ্ধতি সম্পর্কে চাষিরা জানান, সাধারণত সমতল ও সুনিষ্কাশিত জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চারা রোপণ করতে হয়। জমি তৈরির সময় পরিমিত জৈব সার প্রয়োগ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে আগাছা পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। গাছের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পর্যাপ্ত পানিসেচ ও সুষম সার ব্যবহার করলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া যায়। কলা গাছে পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণ প্রতিরোধে নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ করতে হয়। মেহের সাগর জাতের কলার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সাধারণ জাতের চেয়ে এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক ভালো। ক্ষেতের পরিচর্যার বিষয়ে স্থানীয় চাষিরা জানান, কলা পরিপক্ব হওয়ার সময় বাতাসে যেন গাছ হেলে না পড়ে সেজন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকনা দেওয়া হয়। যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করতে পারলে প্রতি বিঘা জমি থেকেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মুনাফা অর্জন করা সম্ভব।

উৎপাদিত কলার আকার ও স্বাদ ভালো হওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে এই কলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর না করে পাইকারি বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা।

মেহের সাগর কলার বাণিজ্যিক আবাদ সম্প্রসারণে স্থানীয় কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। লাভজনক এই কৃষির মাধ্যমে এলাকার বহু বেকার যুবক ও প্রান্তিক কৃষক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।