শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
প্রান্তিক খামারি

অল্প পুঁজিতে লাভজনক ছাগল খামার: ঘরে ঘরে স্বাবলম্বী চুয়াডাঙ্গা

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

অল্প পুঁজিতে লাভজনক ছাগল খামার: ঘরে ঘরে স্বাবলম্বী চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ছাগল পালন করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনছেন প্রান্তিক খামারিরা। বসতবাড়ির আঙিনায় স্বল্প পুঁজিতে শুরু করা এসব ক্ষুদ্র খামার এখন অনেক পরিবারের জীবিকা ও সচ্ছলতার মূল ভরসা হয়ে উঠেছে।

হাজরাহাটি পীরপাড়া গ্রামের চিত্রটি এমনই পরিবর্তনের সাক্ষ্য দেয়। সেখানে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই দেশীয় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের পাশাপাশি উন্নত জাতের সংকর ছাগল লালন-পালন করা হচ্ছে।

গ্রামে ছাগল পালনকে লাভজনক আয়ের মাধ্যমে রূপান্তর করেছেন স্থানীয় খামারি মোহাম্মদ সোনা মিয়া। আট বছর আগে সরকারি একটি খামার পরিদর্শন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি পারিবারিক উদ্যোগে এই কার্যক্রম শুরু করেন। শুরুতে সাতটি ছাগল কেনা হলেও প্রসবকালীন জটিলতায় একটি মারা যায়। টিকে থাকা ছয়টি ছাগল নিয়ে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ এখন প্রায় ৬০টি ছাগলের এক স্বয়ংসম্পূর্ণ খামারে রূপ নিয়েছে।

খামারের দৈনন্দিন পরিচর্যায় সোনা মিয়ার মা মালেকা বেগম সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। তিনি জানান, একসময় তাদের অভাবের সংসার ছিল এবং সন্তানদের তিন বেলা খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন খামারের আয়ে পরিবারে সম্পূর্ণ সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখা হয় গম, ভুট্টা, ভুসি, দানাদার খাবার, খড় ও কাঁচা ঘাস। পাশাপাশি প্রজননের জন্য উন্নত জাতের পাঠা ব্যবহার করে ব্ল্যাক বেঙ্গল ও যমুনাপাড়ির সংকরায়ণের মাধ্যমে ওজন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। উপযুক্ত শারীরিক গঠনের কারণে হাটে না তুলেও খামার থেকেই সরাসরি কাঙ্ক্ষিত দামে ক্রেতাদের কাছে ছাগল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। খামারের পাশাপাশি সোনা মিয়া দেশি জাতের পায়রা ও গরুও পালন করছেন, যা থেকে প্রতি মাসে বাড়তি আয় যোগ হচ্ছে।

একই গ্রামের আরেক খামারি মোহাম্মদ আরিফ ধারদেনা করে মাত্র একটি ছাগল কিনে যাত্রা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ২৫টি ছাগল রয়েছে। কোরবানির ঈদে প্রতিটি ছাগল গড়ে ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি হয়। ছাগল বিক্রির এই উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ইতোমধ্যে জমি ক্রয় করেছেন এবং নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

চুয়াডাঙ্গার এসব প্রান্তিক খামারিদের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, সঠিক যত্ন ও পরিকল্পিত সংকরায়ণের মাধ্যমে গৃহস্থালি ছাগল পালন গ্রামীণ দারিদ্র্য দূরীকরণে অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে।