শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শার্শায় মুখিকচু চাষে কৃষকের বাজিমাত

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০১:০০ পিএম

শার্শায় মুখিকচু চাষে কৃষকের বাজিমাত

মাটি ও আবহাওয়ার অনুকূল বৈশিষ্ট্যের কারণে সবজি চাষে এগিয়ে থাকা যশোরে মাঠের পর মাঠজুড়ে আবাদ হচ্ছে মুখিকচু।

যশোর জেলা সদর থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নেই মুখিকচুর কমবেশি চাষ হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে নিজামপুর ইউনিয়নে। বর্ষায় পানি জমে না এবং সারা দিন রোদ পায় এমন উঁচু ও মাঝারি দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে কন্দ রোপণের মাধ্যমে এ চাষাবাদ শুরু হয়। সাধারণত মধ্য-মাঘ থেকে মধ্য-ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ে জমিতে দুই থেকে আড়াই ফুট দূরত্বে সমান্তরাল সারিতে কন্দ লাগানো হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, চাহিদামাফিক সেচ, সুষম সার প্রয়োগ ও নিয়মিত আগাছা পরিষ্কারের মাধ্যমে মাটির নিচে স্ফীত কন্দ আকারে মুখিকচু পুষ্ট হয়ে ওঠে। রোপণের প্রায় ছয় মাস পর মধ্য-ভাদ্রের দিকে গাছের পাতা হলুদ হতে শুরু করলে গোড়ায় কোদাল চালিয়ে মাটির নিচ থেকে আস্ত গোড়াসহ কচু তোলা হয়।

এলাকাভেদে এই ফসল গুড়া কচু, কুঁড়ি কচু, ছড়া কচু, বন্নি কচু, দুলি কচু ও সারকচু নামে পরিচিত। এটি মূলত কন্দাল জাতীয় শস্য, যার শিকড় ও কাণ্ডে শর্করা জমে কন্দ তৈরি হয়। চাষাবাদ পর্বে পুরুষরা মাঠে কাজ করলেও আহরণ, গা থেকে মাটি পরিষ্কার, রোদে শুকানো এবং বাছাই প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী শ্রমিক কাজ করছেন।

উপজেলায় চলতি মৌসুমে মোট ১৮০ হেক্টর জমিতে এই কচুর আবাদ হয়েছে। চাষিরা জানান, ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় মুখিকচু চাষে সময় কিছুটা বেশি লাগলেও উৎপাদন খরচ অনেক কম এবং লাভ তুলনামূলকভাবে বেশি। উচ্চফলনশীল জাতের কারণে কাঠাপ্রতি ফলন চার থেকে পাঁচ মণ এবং বিঘা প্রতি ফলন হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ মণ পর্যন্ত।

পুষ্টি উপাদানের দিক থেকে মুখিকচুতে প্রচুর শর্করা, ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে, যা খরিপ মৌসুমে শাকসবজির আঞ্চলিক ঘাটতি মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় মূল মৌসুম শুরুর প্রায় এক মাস আগে থেকেই আগাম ফসল তুলে বাজারে বিক্রি শুরু হয়। শার্শা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত নিজামপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বাসাবাড়ি বাজারে রাস্তার দুই পাশে জমে ওঠে মুখিকচুর বিশাল পাইকারি মোকাম। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো থেকেও চাষিরা এখানে বিক্রির উদ্দেশ্যে কচু নিয়ে আসেন। প্রতিদিন দুপুর একটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা, ওজন পরিমাপ ও ট্রাকে লোড করার ব্যস্ততা। হাটের প্রায় ৩০টি আড়তে ঢাকা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা প্রতিযোগিতামূলক দরে কচু কেনেন।

মৌসুমের শুরুতে ও শেষে দাম তুলনামূলক বেশি থাকলেও মাঝামাঝি সময়ে প্রতি কেজি কচু পাইকারি পর্যায়ে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন শত শত মণ মুখিকচু কেনাবেচা হওয়ায় বাসাবাড়ি হাটে লাখ লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন হয়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর এসব কচু ট্রাকযোগে ঢাকা, সিলেট, বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর, মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।