সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সীমান্তে ১০টি স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

সীমান্তে ১০টি স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ১০টি স্থলমাইনের চাপ প্লেট বা অগ্রভাগ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি। মঙ্গলবার সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় যৌথভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। 

উখিয়ায় দায়িত্বরত বিজিবি ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম দুপুরে এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এই সরঞ্জাম উদ্ধার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের ভাবিয়ে তুলেছে।

জানা গেছে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সীমান্ত এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একে একে ১০টি স্থলমাইনের চাপ প্লেট উদ্ধার করা সম্ভব হয়। 

উদ্ধারকৃত এই অংশগুলো পরবর্তীতে হোয়াইক্যং বিজিবি ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিজিবির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে একটি স্থলমাইন সাধারণত চারটি অংশ নিয়ে গঠিত হয়। এর মধ্যে এখন যে অংশটি উদ্ধার করা হয়েছে তা হলো মাইনের অগ্রভাগ বা চাপ প্লেট। এই প্লেটগুলো সাধারণত মাটির ঠিক ওপর বা সামান্য নিচে স্থাপন করা থাকে যেখানে সামান্য চাপ পড়লেই পুরো মাইনটি সক্রিয় হয়ে ওঠে।বিজিবি ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন সীমান্ত এলাকা থেকে স্থলমাইনের চাপ প্লেটের মতো বেশ কয়েকটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

তবে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে এগুলোতে কোনো সচল বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিপজ্জনক হওয়ার কারণে বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এগুলোর চুলচেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরণের নাশকতামূলক সরঞ্জাম দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি আগের চেয়ে অনেক বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনার পর উলুবনিয়া ও হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে বিজিবি। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান অস্থিরতার কারণে সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিভিন্ন সময় নানা ধরণের বিস্ফোরক বা অস্ত্রের অংশ আসার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সেনা ও বিজিবির এই সময়োচিত অভিযান বড় কোনো বিপদ রুখে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন সীমান্ত সুরক্ষা বিশ্লেষকরা। পুরো সীমান্ত এলাকা এখন কঠোর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।